মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে ফিরল ৪০টি ইঁদুর

গত মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস) থেকে ৩৮০০ পাউন্ড ওজনের কার্গো বহন করে পৃথিবীতে নিরাপদে অবতরণ করেছে স্পেসএক্সের তৈরি মহাকাশযান ‘ড্রাগন’।

ড্রাগন নামক এই কার্গো মহাকাশযানটির মধ্যে ছিল ৪০টি ইঁদুর, যার মধ্যে বিজ্ঞানীদের জিনগতভাবে পরির্তন করা অত্যন্ত পেশীবহুল ৮টি ইঁদুর ছিল। এই ইঁদুরগুলোকে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা শক্তিশালী পেশীর এই ইঁদুরগুলোকে পর্যবেক্ষণ করে নভোচারীদের মহাকাশে সুস্থ রাখার বিষয়টি বিজ্ঞানীরা উদঘাটন করতে পারবেন বলে প্রত্যাশা করছেন।

এই ৪০টি ইঁদুর স্পেসএক্সের মহাকাশযানে চড়ে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছেছিল রোডেন্ট রিসার্চ-১৯ প্রকল্পের অংশ হিসেবে। মহাকাশে মাইক্রোগ্রাভিটি কীভাবে পেশী ও হাড়ের ক্ষয়কে প্রভাবিত করে তা পরীক্ষা করার জন্যই এই গবেষণা প্রকল্পের উদ্যোগ নেন বিজ্ঞানীরা।

এই পরীক্ষা চালানোর কারণ হচ্ছে, এর আগে জানা গিয়েছিল যে দীর্ঘদিন মহাকাশে থাকার পরে যারা ফিরে এসেছেন, তাদের শরীরে কিছু ঝামেলা হয়েছিল। মহাকাশের ওজনহীনতায় নভোচারীদের হাড় ও মাংসপেশী ক্ষয়ের ঘটনা ঘটেছিল।। তাই বিজ্ঞানীরা ৮টি ইঁদুরকে জেনেটিক্যালি পরিবর্তন করে পৃথিবীর ইঁদুরের দ্বিগুণ শক্তিশালী করে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পাঠিয়েছিলেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে থাকা নভোচারীরাও ইঁদুরগুলোর ওপর কিছু ওষুধ ব্যবহার করেছিলেন। এটা জানার জন্য যে, মহাকাশে দীর্ঘ সময় কাটানোর ফলে পেশী এবং হাড়ের ক্ষয় ঠিক কি কারণে হয়।

আর এখন যেহেতু শক্তিশালী ইঁদুরগুলো ও তাদের সঙ্গী ইঁদুরগুলো পৃথিবীতে ফিরে এসেছে, তাই বিজ্ঞানীরা তাদের ওপর গবেষণা করে পেশী ও হাড় ক্ষয়ের কৌশলগুলো খুঁজে বের করতে পারবেন।

গবেষণা প্রকল্পটির সহ-গবেষক সে-জিন লি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘নভোচারীদের পেশী এবং হাড়ের ওপর মাইক্রোগ্রাভিটির প্রভাব সম্পর্কে আমরা যা জানছি তা মহাকাশ এবং পৃথিবী- ‍উভয় ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে সহায়তা করবে। এছাড়া বয়স্ক ব্যক্তি কিংবা এইডস, এএলএস, ক্যানসারসহ অন্যান্য রোগে হাড় ক্ষয় প্রতিরোধ সম্পর্কেও আরো ভালো ধারণা লাভ করা সম্ভব হবে।’


আরও পড়ুন