নতুন চ্যাম্পিয়ন পাচ্ছে বিপিএল

বিপিএলের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৬ উইকেট নিয়ে খুলনা টাইগার্সকে ফাইনালে তুলেছেন মোহাম্মদ আমির। আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করা নাজমুল হোসেন শান্ত গতকাল মিরপুরে প্রথম কোয়ালিফায়ারেও খেললেন সর্বোচ্চ ইনিংস। তবে তার অপরাজিত ৭৮ রানের ইনিংসেও ৩ উইকেটে ১৫৮ রানের বেশি করতে পারেনি খুলনা। কিন্তু পাকিস্তানি পেসার আমিরের আগুন ঝরানো বোলিংয়ে সেই রানটাই রাজশাহী রয়্যালসের কাছে হয়ে ওঠে বিশাল। তৃতীয় বল থেকেই বিপর্যয়ের শুরু রাজশাহীর। অধিনায়ক আন্দ্রে রাসেল যখন পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে বিদায় নেন, তখন দলের রান মাত্র ২৩। এই ৫ উইকেটের চারটিই নিয়েছেন আমির ৩ ওভারের প্রথম স্পেলে। আমির পরের স্পেলে ম্যাচ সর্বোচ্চ ৮০ রান করা শোয়েব মালিকসহ আরও ২ উইকেট নেন। রাজশাহী ১৩১ রানে অল আউট হয়। ফলে ২৭ রানে জিতে ফাইনালে উঠেছে খুলনা। সাবেক চ্যাম্পিয়ন ঢাকাকে এলিমিনেটরে বিদায় করে দেওয়া চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের সঙ্গে আগামীকাল দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার খেলবে প্রথম কোয়ালিফায়ারের পরাজিতরা।

মিরপুরে গতকাল প্রথম কোয়ালিফায়ারে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রাজশাহী। ব্যাট করতে নেমে খুলনার শুরুটা ভালো হয়নি। গত দুই ম্যাচে ঝড় তোলা মেহেদী হাসান মিরাজ ব্যর্থ হয়েছেন। এক ছক্কায় ৮ বলে মাত্র ৮ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি। এরপর কোনো রান না করেই আউট হন রাইলি রুশো। ১৫ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে খুলনা। এখান থেকে শামসুর রহমান শুভকে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর মিশন শুরু করেন শান্ত। তৃতীয় উইকেটে ৭৮ রান যোগ করেন তারা। ৩২ রানে আউট হন শামসুর। অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ২১ রানে ক্র্যাম্পে পড়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। ৫৭ বলে ৭৮ করে অপরাজিত ছিলেন শান্ত। এবারের বিপিএলে তার রান এখন ৩০৮। মুশফিক ৪৭০ রান নিয়ে আছেন শীর্ষে।

মাশরাফীদের উড়িয়ে কোয়ালিফায়ারে মাহমুদউল্লাহরা

প্লে-অফের ম্যাচ এমন ম্যাড়মেড়ে হলে চলে! নকআউটে এমন একাধিপত্যের ম্যাচ দেখতে গাঁটের পয়সা খরচ করা কেন! ক্রিকেটপ্রেমীরা এমন কথা নিশ্চিতভাবে গতকাল বিপিএলের এলিমিনেটর ম্যাচ নিয়ে বলেছেন। যেখানে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার ঢাকা প্লাটুনকে এক কথায় উড়িয়ে দিয়ে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার খেলার সুযোগ করে নিল মাহমুদউল্লাহর চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। ১৪ বল ও ৭ উইকেট হাতে রেখেই ১৪৫ রানের লক্ষ্য পেরিয়েছে তারা।

অবশ্য রাউন্ড লিগের দু’ম্যাচেও চট্টগ্রামের কাছে পাত্তা পায়নি ঢাকা। একটিতে আসরের নিজেদের সর্বনিম্ন ১২৪ রান করেছিল ঢাকা। অন্যটিতে তাদের বিপক্ষে ২১১ রানের পাহাড় গড়ে জিতেছিল চট্টগ্রাম। নড়বড়ে মিডল অর্ডার নিয়ে কোনোমতে এলিমিনেটরে আসতে পারলেও ক্রিস গেইলদের সামনে পড়ে শেষ রক্ষা হলো না তামিম-ইমরুলদের। আগে ব্যাট করতে নামা ঢাকার মিডল অর্ডার গুঁড়িয়ে দেন চট্টগ্রামের বোলাররা। টপ অর্ডারকেও তেমন কিছু করতে দেননি। বেশিরভাগ রান এসেছে লোয়ার অর্ডারে। কিন্তু ৮ উইকেটে ১৪৪ রান তুলে জেতা যায়নি।

লক্ষ্য ছোট। কিন্তু মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের কিছুটা ধীর উইকেটে সতর্ক ছিলেন ক্রিস গেইল আর জিয়াউর রহমান। গেইল সেভাবে ঝড় তোলেননি। তুলেছিলেন জিয়া। অবশ্য ১২ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ২৫ করেই বিদায় নেন তিনি ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে। পাওয়ার প্লে’র ৬ ওভারে ১ উইকেটে ৪৩ চট্টগ্রামের। এই সময় ঢাকা করেছিল ৩ উইকেটে ২৮।

ফর্মে থাকা ইমরুল কায়েস ২২ বলে ৩২ দিয়ে গেছেন। গেইলের সঙ্গে তার ৪৯ রানের জুটিতে জয়ের পথে দুই-তৃতীয়াংশ কাজ শেষ। মাশরাফীকে টানা দুই বলে ইমরুলকে ছক্কা হাঁকাতে দেখেও গেইল চুপ। স্বভাববিরুদ্ধ ইনিংস খেলেছেন কাল; ৪৯ বলে ৩৮। দুই চারের সঙ্গে এক ছক্কা। অর্থাৎ দৌড়ে গেইল নিয়েছেন ২২ রান! তার ক্যাচ এক হাতে নিয়েছেন মাশরাফী। হাতে ১৪ সেলাই নিয়েও মাঠে নেমেছিলেন তিনি। ব্যাট করেছেন। বলও করেন কোটার ৪ ওভার। তার প্রতিপক্ষ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ শেষটায় শাদাব খানকে টানা দুই বিশাল ছক্কায় খেলা শেষ করে দিয়েছেন। মাহমুদউল্লাহ ১৪ বলে ৪ ছক্কায় ৩৪ রানে অপরাজিত ছিলেন।

সবাইকে অবাক করে দিয়ে ব্যান্ডেজ বাধা হাত নিয়ে দুপুরে টস করেন মাশরাফী। সেখানে হার মাহমুদউল্লাহর কাছে। আগে ব্যাট করতে নামা ঢাকার ইনিংসে ব্যাটিং ব্যর্থতা সবকিছু ছাপিয়ে যায়। স্বীকৃত ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তিনজন শূন্য রানে ফিরলে সবকিছু কঠিন হয়ে যায় তাদের জন্য। আগের ম্যাচে ঝড় তোলা মুমিনুল হক (৩১ বলে ৩১) এদিন তামিম ইকবালের (৩) সঙ্গে ইনিংস ওপেন করতে নেমে প্রতিরোধ গড়েছিলেন। কিন্তু বালুর বাঁধ হয়ে উঠেছিল ঢাকার ইনিংস। রুবেল হোসেন বোল্ড করে ফেরানোর পর রেকর্ড ১১তম শূন্যতে বিদায় এনামুল হক বিজয়। এমন বড় ম্যাচে লুইস রিস ৩-এ নেমে ব্যর্থ। মেহেদী হাসান (৭) রায়দ এমরিতকে বাউন্ডারি মারার পরের বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন। ক্যারিবীয় পেসার এমরিত জাকের আলিকে আউট করে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন। তা হয়নি, তবে ৪৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে হাঁসফাঁস অবস্থা ঢাকার।

টুর্নামেন্টে নিজেদের সর্বনিম্ন ১২৪ ছিল চট্টগ্রামের বিপক্ষে। মনে হচ্ছিল এবার সেটাও হবে না ঢাকার কিন্তু শাদাব ও থিসারা পেরেরা অষ্টম উইকেটে ইনিংস সর্বোচ্চ ৪৪ রান করলে ভদ্রস্থ হয়েছে স্কোর। থিসারা ১৩ বলে ২৫ করে ফিরলে মাশরাফী নামেন। শেষ ১৪ বল ঢাকার জন্য সুফলা। শাদাবের আক্রমণে আসে ৩৯ রান। শেষ ৩ ওভারে ৫১ লড়ার পুঁজি দেয় ঢাকাকে। শাদাব অবশ্য মাশরাফীকে মাত্র ২ বল খেলতে দিয়েছেন। অধিনায়ক অপরাজিত থাকেন শূন্যতে। তাদের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ওঠে ৪০। শাদাব ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি তুলে নেওয়ার পর ৪১ বলে ৩ ছক্কা ও ৫ চারে ৬৪ রানের হার না মানা ইনিংস খেলেন। এমরিত তিন আর রুবেল ও নাসুম দুটি করে উইকেট নেন। কিন্তু ঢাকার বোলাররা শেষ পর্যন্ত পারেননি।


আরও পড়ুন