রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে রাসেল ঝড়, ফাইনালে রাজশাহী

অবিশ্বাস্য ব্যাটিং করে রাজশাহী রয়্যালসকে একাই বঙ্গবন্ধু বিপিএলের ফাইনালে তোলেন ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেল। তার ২২ বলে ৫৪ ঝোড়ো ইনিংসে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে দুই উইকেটে হারায় রাজশাহী রয়্যালস। রুদ্ধশ্বাস এই ম্যাচে ১৯ তম ওভারে মেহেদী হাসান রানার বলে ২৩ রান নিয়ে মূলত ম্যাচের নাটাই নিজদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন রাসেলরা।

দ্বিতীয় সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে রাজশাহী। প্রথম এলিমেনটরে ঢাকা প্লাটুনকে হারিয়ে ফাইনালের স্বপ্ন জিইয়ে রাখছিল রাজশাহী। আজ বুধবার চট্টগ্রামকে হারিয়ে ট্রফি জয়ের আরও কাছে পৌঁছে গেলো পদ্মা পাড়ের দলটি। আগামী শুক্রুবার ফাইনালে খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে খেলতে নামবে তারা।

চট্টগ্রামের ১৬৪ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে রাজশাহী চার বল বাকি থাকতে দুই উইকেট হাতে রেখে লক্ষ্যে পৌঁছে যায়।

রাজশাহীর হয়ে সর্বোচ্চ ৫৪ রান করেন রাসেল। মাত্র ২২ বলের এই ইনিংসে  ছয়ের মারই ছিল সাতটি। চার ছিল মাত্র দুটি। এ ছাড়া শুক্কুর ৪৫ রানের ইনিংস খেলেন। আর কোনো ব্যাটসম্যানই ২০ রানের বেশি করতে পারেননি। চট্টগ্রামের হয়ে সর্বোচ্চ দুটি করে উইকেট নেন মেহেদী হাসান রানা ও রায়াদ এমরিদ।

এর আগে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ওভারে ৯  উইকেটে ১৬৪ রান করে চট্টগ্রাম। ক্রিস গেইলের ঝড়ো হাফসেঞ্চুরি, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও অ্যাশলে গুনারত্নের ক্যামিও ইনিংসের ওপর দাঁড়িয়ে এই সংগ্রহ তুলেছে চট্টগ্রাম।

গেইল ফিরেছেন ২৪ বলে ৬০ রানের ইনিংস খেলে। ইনিংসে পাঁচটি ছক্কার সঙ্গে ছিল ছয়টি চারের মার। গেইলকে ফেরানো না গেলে হয়তো দুশো-ও ছাড়াতে পারত চট্টগ্রাম।

আগে ব্যাট করতে নামা চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স উইকেট হারিয়েছে নিয়মিত বিরতি দিয়ে। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে ঝড় তুলে গেছেন গেইল, রানের চাকা রেখেছেন সচল। যদিও শেষ দিকে রান তোলার গতি অনেকটাই কমে গেছে মাহমুদউল্লাহদের। ২৫ বলে ৩১ রান করেছেন গুনারত্নে। ইনিংসে দুটি ছক্কা ও একটি চার মেরেছেন তিনি।

গেইললের সঙ্গে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও। কিন্তু বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি চট্টগ্রাম দলপতি। ১৮ বলে তিনটি করে চার-ছক্কায় ৩৩ রান করেছেন এই অলরাউন্ডার। তবে মাহমুদউল্লাহ ফিরলেও রানের জোয়ারে রেখে গেছেন দলকে। যদিও লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানরা সেই জোয়ারে গা ভাসাতে পারেননি।

রাজশাহীর হয়ে দুটি করে উইকেট নিয়েছেন মোহাম্মদ ইরফান ও মোহাম্মদ নওয়াজ। ইরফান ১৬ ও নওয়াজ মাত্র ১৩ রান দিয়েছেন।


আরও পড়ুন