মানুষের সংস্পর্শেই ছড়িয়ে পড়ছে চীনের রহস্যময় করোনাভাইরাস

মানুষের সংস্পর্শেই ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস। দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এই তথ্য জানিয়েছেন চীনের চিকিৎসকরা। দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের বাহক মানুষই। 

এদিকে, মঙ্গলবারও ইউহান প্রদেশ অর্থাৎ যেখান থেকে করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে, সেখানকার এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়ে চীনে করোনাভাইরাসের আক্রমণের মারা গেছেন চার জন। তিনিও প্রাথমিকভাবে নিউমোনিয়ার উপসর্গ নিয়ে চিকিত্‍সা করাতে গিয়েছিলেন। শারীরিক পরীক্ষার পর ধরা পড়ে, তার দেহে বাসা বেঁধেছে করোনা ভাইরাস। এছাড়া বেইজিং ও শাংহাইতেও ছড়িয়েছে এই রোগের জীবাণু।

জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের এই প্রতিবেদনের পর করোনাভাইরাস আক্রান্তদের ‘আইসোলেশন ওয়ার্ড’-এ রেখে চিকিৎসা করানোর কথা ভাবা হচ্ছে। কাজ করতে গিয়ে ইউহান মিউনিসিপ্যালিটির স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের পরীক্ষা করেই গবেষকরা নিশ্চিত হয়েছেন যে সংস্পর্শ থেকেই ছড়িয়ে পড়ছে ভাইরাসটি। 

প্রাথমিকভাবে ইউহানের সামুদ্রিক খাবার থেকে ভাইরাসটি ছড়িয়েছিল। বেশ কিছু গবাদি পশুও আক্রান্ত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তাদের ডিম বা মাংস থেকে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে জীবাণুটি। এর আগে এই ধরনের জীবাণুর অস্তিত্ব মেলেনি বলেই জানিয়েছেন চিকিত্‍সকরা। সাধারণ জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। পরে রক্ত পরীক্ষায় মিলেছে এই করোনাভাইরাস।

করোনাভাইরাসের উৎসস্থল চীন হলেও এই মুহূর্তে ভাইরাসের আতঙ্কে কাঁপছে পাশের দেশগুলোও। জাপান, সিঙ্গাপুর, হংকং, তাইওয়ান, অস্ট্রেলিয়ায় চীন থেকে যাওয়া যাত্রীদের শারীরিক পরীক্ষা করা হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনাভাইরাসকে আন্তর্জাতিক স্তরে জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে ‘বিপজ্জনক’ তকমা দেওয়ার কথা ভাবছে। ঠিক যেভাবে সোয়াইন ফ্লু ও ইবোলার ক্ষেত্রে ঘোষণা করা হয়েছিল। বুধবার সংস্থার সদর দপ্তরে এনিয়ে বৈঠকের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।


আরও পড়ুন