দেশের খবর - January 23, 2020

ছাতকে মসজিদের নামে জমি দখল নিয়ে গ্রামবাসীর উত্তেজনা

ছাতকে উপজেলা গোবিন্দগঞ্জ সৈয়দের গাও ইউনিয়নের মসজিদের নামে সাইন বোর্ড বসিয়ে সরকারি খাল ও গোপাট দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণের কাজ পুলিশ বন্ধ করে দেয়ায় এ ঘটনায় বিলপার গ্রাম অশান্ত হয়ে উঠেছে। সরকারি গোপাট খাস জমি দখল নিয়ে গ্রামবাসীদের দু’পক্ষের  মধ্যে সংঘর্ষের আশংকা দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের বাধাঁ নিদের্শকে বৃদ্ধা্ঙ্গুল দেখিয়ে অবৈধ স্থাপনার কাজ আবারো শুরু করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী একটি চক্রের বিরুদ্ধে।

গ্রামবাসীরা জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা পেতে খাল দখলকে উচ্ছেদ করার দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকতার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বিলপার গ্রামের পক্ষে মৃত হাজি আঞ্জব আলীর পুত্র আজম আলী বাদী হয়ে একই গ্রামের  মৃত ছমির উদ্দিনের পুত্র আবু তাহের, জসিম উদ্দিন, বাবুল মিয়া, আব্দুল মতিন, ফিরোজ আলী, সিতাবুর রহমান, দুদু মিয়া ও রজব আলীসহ ৮ জনের নামে গত ২১-২২ জানুয়ারী সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও উপজেলার নির্বাহী কর্মকতার বরাবরে অভিযোগ দায়ের করলে এ অভিযোগটি তদন্ত ও রেকর্ড পযালোচনা করে ব্যবস্থা নেয়ার নিদের্শ দেন তহসিলদারকে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামের দু’পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ সৈয়দগাও ইউনিয়নের বিলপার  গ্রামের রাধানগর মৌজার ৪০৬নং জেল এল এক নম্বার খতিয়ানে ২হাজার ২শ’১২ নং দাগে খাল সরকারি খাস গোপাট জমি রয়েছে। ওই জমির আশপাশে ব্যক্তি মালিকানাধিন ফসলি জমি ও বসতবাড়ি পানি চলাচলে রয়েছে। সরকারি খাল মসজিদ সাইন বোর্ড দিয়ে জোরপুবক পাকা স্থাপনা নির্মানের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ অবৈধ স্থাপনা নিমানের কাজে বাধাঁ ও  প্রতিবাদ করায় ভুমিদুস্যুরা তাদেরকে হত্যার হুমকি দেয়ার এ ঘটনায় গ্রামে দু’পক্ষের মধ্যে গত বৃস্পতিবার সকাল থেকে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। যে কোনো সময় এ অবৈধ স্থাপনার জের ধরেই সংঘর্ষের আশংকা রয়েছে।

অন্যদিকে আশপাশের ফসলি জমি ও বসতবাড়িতে চলতি বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার আশংকা দেখা দেবে বলে গ্রামবাসী অভিযোগ করে।

এদিকে গত ২৩ জানুয়ারী বিকালে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদশক করে মসজিদের নামে সাইন বোর্ড বসিয়ে পানি চলাচলে গোপাট ও খাল দখল করে পাকা অবৈধ স্থাপনা নিমানের কাজ অবশেষে বন্ধ করে দিল পুলিশ। কিন্তু পুলিশ চলে যাবার পর আবারো পাকা স্থাপনের কাজ শুরু করেছে প্রভাবশালী চত্রু।

এ ব্যাপারে জাহিদপুর ভূমি অফিসের ভূমি কর্মকর্তা  প্রদীপ রঞ্জন দেব জানান, অভিযোগ প্রাপ্তির ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশ মোতাবেক এ বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার হবে। খাল দখলদারদের বাঁধা নিষেধঁ করলে ও তারা বাধাঁ মানছে না বলে তিনি জানান।

এ ব্যাপারে ছাতক উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুনিয়া সুলাতানা জানান, খাল দখলের অভিযোগটি তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আরও পড়ুন