দেশের খবর - February 5, 2020

আসামীকে ধরতে গিয়ে পেল চাচী-ভাতিজা আপত্তিকর অবস্থায়

আসামি ধরতে গিয়ে চাঁচি ও ভাতিজাকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করেছে পুলিশ। এঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আর এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বালাগ্রাম ইউনিয়নের পূর্ব বালাগ্রাম মসজিদ পাড়ায় ঘটেছে।

মঙ্গলবার (০৪ ফেব্রুয়ারী) দিবাগত রাত অনুমান দুইটার দিকে জলঢাকা থানার এস আই আব্দুর রশিদ গোপন সংবাদে ভিত্তিতে ঐ এলাকার আতা মামুদের ছেলে আব্দুল লতিফ (৪৫) কে গ্রেফতার করতে তাঁর বাড়ীতে অভিযান চালায়। পুলিশ বাড়ীর চারদিক ঘিড়ে ফেলে এবং বাড়ীতে প্রবেশ করে। শয়ন ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে পুলিশ, এসময় আব্দুল লতিফের স্ত্রী রোজিনা বেগম (৩৫) কে, তাঁর স্বামীর চাচাতো বড় ভাইয়ের ছেলে মাহবুর হোসেন (২৫) এর সাথে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পায়। পরে দুইজনকে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। মাহবুর হোসেন ঐ এলাকার খাতির উদ্দিনের ছেলে। মঙ্গলবার দুপুরে এসআই আব্দুর রশিদের নেতৃত্বে তাদেরকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ সুজাউদ্দৌলার কার্যালয়ে আনা হয়। পরে ভ্রাম্যমান আদালত উভয় পক্ষের স্বীকারউক্তি মূলক জবানবন্দিতে দোষী সাব্যস্ত হলে, তাদেরকে দন্ডবিধি ২৯৪ ধারায় প্রত্যেককে ২শত করে ৪শত টাকা জরিমানা নিয়ে ছেড়ে দেন।

বুধবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গেলে এলাকাবাসী জানান, স্বামী আব্দুল লতিফ বাড়ীতে না থাকায়, কয়েক বছর যাবত তার স্ত্রী রোজিনা বেগম এধরনের আপত্তিকর কর্মকান্ড চালায়। যা প্রতিবেশী নছির উদ্দিনের ছেলে আব্দুর রহমান ও আব্দুল লতিফের ছোট ভাই আব্দুল গনি প্রতিবাদ করে আসে। গত ০৬/০৬/১৯ইং তারিখে রাত অনুমান সাড়ে বারোটায় আব্দুর রহমান তাঁর মুদির দোকান বন্ধ করে বাড়িতে যায়, তার স্ত্রী আলেয়া বেগমের সাথে রোজিনা বেগমের এক পর্যায় ঝগড়া-বিবাদ হয়। প্রত্যকদর্শীরা আরো জানায়, এরই জেরে পরের দিন সকালে আবারো বাকবিদন্ডা হলে, আব্দুল লতিফ চুলায় থাকা চা জালানো গরম পানি আব্দুর রহমানের চার বছরের শিশু সন্তানের গায়ে ছুড়েমারে। এতে শরীরের ২০% ঝলসে যায়। এঘটনায় আব্দুর রহমান বাদী হয়ে ৫ জনকে আসামী করে জলঢাকা থানায় মামলা দায়ের করেন। অপরদিকে মামলা থেকে বাঁচানোর জন্য আব্দুল লফিত তার স্ত্রী রোজিনাকে বাদী করে নীলফামারী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে, আব্দুর রহমান ও বাদীনি নিজের দেবর আব্দুল গনিকে ধর্ষনের চেষ্টা করেছে মর্মে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলা তদন্তের জন্য উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মনোয়ারা বেগমকে দেন।

নাম না বলা সর্তে অনেকে জানান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের স্বামী সাখাওয়াত হোসেন মোটা অর্থের বিনিময় আব্দুল গনির নাম বাদ দিয়ে আব্দুর রহমানের নামে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠায়। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে, বাদী আব্দুর রহমানের দায়ের করা মামলার ’আইও” এসআই আব্দুর রশিদ, পলাতক আসামী আব্দুল লতিফকে গ্রেফতারের জন্য তার বাড়ীতে অভিযান চালায়। এবং আসামীকে না পেলেও তার শয়ন কক্ষে চাচী রোজিনা বেগম ও ভাতিজা মাহবুর হোসেনকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

ছেলেকে গরম পানি দিয়ে ঝলসানো মামলার বাদী আব্দুর রহমান বলেন, মুই সত্য কথা বলতে গিয়ে মোকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। মিথ্যা ধর্ষণের চেষ্টা মামলার ন্যায় বিচারের দাবীও জানান।

এবিষয়ে এসআই আবদউর রশিদ মুঠো ফোনে বলেন, ঘটনাটি সত্য আসামী ধরতে গিয়ে তাদেরকে এক ঘরে পাওয়ায় থানায় নিয়ে আসি। পরে মামলা দেয়ার বাদী না পাওয়ায় উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এর ভ্রাম্যমান আদালতে দন্ডবিধি ২৯৪ ধারায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।


আরও পড়ুন