প্রথম দিনে বিবর্ণ টাইগাররা

পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট খেলতে নেমে হতাশায় শুরু করেছে বাংলাদেশ। ক্রিকেটের এই অভিজাত সংস্করণ এলেই যেন তামিমরা আরও নুইয়ে পড়েন। মাঝেমধ্যে সাফল্য আসলেও বেশিরভাগ সময়ই না পাওয়ার গল্প। দেশের মাটিতে আফগানিস্তানের সঙ্গে লজ্জার হার, ভারতের মাটিতে ভরাডুবির পর পাকিস্তানের মাটিতেও টাইগারদের একই রূপ।

টপ অর্ডার-মিডল অর্ডার ব্যর্থ হলেও আট নম্বরে নেমে পরিপক্কতার পরিচয় দিয়েছেন তাইজুল ইসলাম। দলীয় ১৬১ রানের মাথায় লিটন যখন সাজঘরে ফেরেন তখন ২০০ করতে পারবে কী না এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছিলো। কিন্তু তাইজুল কোনো প্রশ্ন রাখারই সুযোগ দেননি। আগেই ক্রিজে থাকা মোহাম্মদ মিঠুনকে সঙ্গ দিয়ে ২০০ পার হওয়ার পেছনে অনেক ভূমিকা রাখে। দুজনের সপ্তম উইকেটের জুটিতে ৫৩ রানের সুবাদে সবকটি উইকেট হারিয়ে প্রথম ইনিংসে ২৩৩ রান করে বাংলাদেশ। সাত ওভার আগে বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হলেও প্রথম দিনের খেলা শেষ ঘোষণা করেন আম্পায়ার। 

দলীয় ২১৪ রানে ব্যক্তিগত ২৪ রানে তাইজুল ফিরে গেলেই মূলত সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়। তবে মিঠুন থাকায় কিছুটা আশা বেঁচে ছিল। সর্বোচ্চ ৬৩ রান আসে মিঠুনের ব্যাট থেকে। ১৪৬ বলে তিনি এই রান করেন। রাওয়ালপিন্ডিতে প্রথম টেস্টের প্রথম দিন ব্যাটিং করতে নেমে প্রথম দুই ওভারেই বাংলাদেশ হারায় দুই ওপেনারকে। ক্রিজে থিতু হয়ে সাজঘরে ফেরেন মুমিনুল হক (৩০)। আরেক বাঁহাতি ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন শান্তও (৪৪) সম্ভাবনা দেখিয়ে ফেরেন সাজঘরে। শান্ত-মুমিনুলদের মতো একই পথের পথিক মাহমুদউল্লাহও। ৪৮ বলে ২৫ রান করে ক্রিজে থিতু হয়ে ফেরেন সাজঘরে। একই কাজ করেছেন লিটন দাসও। ৪৬ বলে ৩৩ রানের ইনিংস খেলে ফেরেন সাজঘরে।

দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান তামিম-মুমিনুল দলের হাল ধরতে ব্যর্থ। তবে মাত্র দুই টেস্ট খেলা নাজমুল হোসাইন শান্ত খেলছেন ধীরেসুস্থে। তার বিচক্ষণ ব্যাটিংয়ে শুরুর বিপর্যয় কাটিয়ে উঠে টাইগাররা। দলকে শুরুর বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠালেও সুবিধাজঙ্ক অবস্থানে নিয়ে যেতে পারেননি।

মুমিনুলের সঙ্গে ৫৯ রানের জুটির পর এখন মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে ৩৩ রানের জুটে গড়ে শান্ত ফেরেন ৪৪ রান করেই। লাঞ্চ বিরতিতে থেকে ফিরেই প্রথম ওভারে মোহাম্মদ আব্বাসের শিকার হন শান্ত।  ১৭ রানে অপরাজিত থাকা রিয়াদ ফেরেন মাত্র ৮ রান যোগ করেই। রিয়াদ ফিরে গেলে ক্রিজে আসেন লিটন দাস।  হতাশ করেছেন লিটনও।  এর আগে মাত্র দুই টেস্ট খেলা শান্তর এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রান ছিল ১৮। আজ ৪৪ রান করে ছাড়িয়ে গেলেন নিজেক।

টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে প্রথম দুই ওভারেই দুই ওপেনার ফিরে গেছেন সাজঘরে। প্রথম ওভারে আউট হয়েছেন সাইফ হাসান। প্রত্যাশা দূরে থাক, রানের খাতাই খুলতে পারেননি ২১ বছর বয়সী সাইফ। দুই বলে ০ রান করেন তিনি। আর পরের ওভারেই এলবিডব্লিউর ফাঁদে কাঁটা পড়েছেন অভিজ্ঞ ওপেনার তামিম ইকবাল।

পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ চার উইকেট নেন শাহেন শাহ আফ্রিদি। দুটি করে উইকেট নেন মোহাম্মদ আব্বাস ও হারিস সোহাইল। 

বাংলাদেশ একাদশ সাজিয়েছে তিন পেসার ও এক স্পিনার নিয়ে। আজ শুক্রবার বেলা ১১টায় রাওয়ালপিন্ডিতে শুরু হয়েছে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট। কুড়ি বছরের টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে এখনো পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ জয়ের রেকর্ড নেই বাংলাদেশের। তাদের বিপক্ষে টাইগারদের সর্বোচ্চ সাফল্য একটি ম্যাচে ড্র। ২০১৫ সালের এপ্রিলে খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম বারের মতো কোনো টেস্ট ম্যাচে ড্র করার গৌরব অর্জন করে বাংলাদেশ।

এ পর্যন্ত তাদের বিপক্ষে মোট ১০টি ম্যাচ খেলে অর্জন ওই ড্র-ই। এর মধ্যে পাকিস্তানের মাটিতে ৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।


আরও পড়ুন