ভেকু মেশিন আবিস্কার করলেন প্রতিবন্ধী ছাত্র মিম

নীলফামারী ডোমারে বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী মিম স্কোভিটার (ভেকু) আবিস্কার করে এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। মেহেদী হাসান মিম (১৯) উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের হাজী পাড়া গ্রামের কৃষক এরশাদুল ইসলামের ছেলে ও মটুকপুর বিজনেজ ম্যানেজমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র।

মিম বিভিন্ন স্থানে তার নিজ মেধায় আবিস্কৃত স্কোভিটারটি (ভেকু মেশিন) সাধারন মানুষের মাঝে প্রদর্শন করেন। তার এ আবিস্কার দেখে জহিরুল ইসলাম বলেন, এখন সমাজে মিমের মতো প্রতিভাবান একজন ছেলে আছে তা নিজ চোখে না দেখলে জানতে পারতাম না। মিমের এ আবিস্কারে আমরা মুগ্ধ। মিমের জন্য দোয়া রইল সে যেন তার লক্ষে পৌছতে পারে।

মিমের বাড়ীতে গিয়ে দেখাযায়, সে স্কোভিটার (ভেকু মেশিন), ড্রোন, হাইট্রলিক ট্রাক, কাগজ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের ফুল তৈরি করেছেন। আবিস্কৃত মেশিনগুলো দেখতে প্রতিনিয়ত তার বাড়ীতে ভীড় জমায় বিভিন্ন এলাকার মানুষ।

ভেকু মেশিন আবিস্কারের বিষয়ে মিমের কাছে জানতে চাইলে সে ইশারায় বুঝিয়ে দেয় এটি দীর্ঘদিন চেষ্টা করার পরে সাফল্য অর্জন করে। এই ভেকুটিতে সে ইনজেশনের সিরিজ, তার ও পানি ব্যবহার করেছেন। সিরিজের মাধ্যমে পানিতে চাপ সৃষ্টি করলে এটির কাজ শুরু হয়। ভেকু তৈরীতে ইনজেকশনের ৮টি সিরিজ ব্যবহার করেছেন। আলোর জন্য বাল্ব সংযুক্ত করেছেন।

মেহেদী হাসান মিমের বাবা এরশাদুল ইসলামের সাথে কথা হলে বলেন, আমার ছেলে একজন বাক ও শ্রোবন প্রতিবন্ধী। কষ্টে চলে আমাদের সংসার। লেখাপড়া চালানোর মতো সামর্থ্য ছিলোনা। তার পরও থেমে থাকেনি আমার বাক ও শ্রোবণ প্রতিবন্ধী ছেলেটি। নিজের চেষ্টায় চালিয়ে যাচ্ছে লেখা পড়া। আজকে সে ভেকু মেশিন, ড্রোন, হাইট্রলিক ট্রাক, কাগজের ফুল তৈরী করেছে। জানিনা মিমের ভিতরে আরো কত প্রতিভা লুকিয়ে আছে। সরকারের একটু সহযোগীতা পেলে হয়তো ভালো কোন কলেজে পড়তে পাড়বে ও ভালো কিছু তৈরী করতে পারবে।


আরও পড়ুন