কুলিয়ারচর - February 18, 2020

কুলিয়ারচরে যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার ও পেট্রোল!

দেখার কেউ নেই....

গ্যাস সিলিন্ডার ও পেট্রোল। সরকার অনুমোদিত দোকান ছাড়া গ্যাস সিলিন্ডার এবং অনুমোদিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও পেট্রোলপাম্প ছাড়া পেট্রোল জাতীয় দাহ্য পদার্থ বিক্রির বিধান না থাকলেও প্রচলিত আইনকে তোয়াক্কা করে উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ও রাস্তার মোড়ে মোড়ে বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার ও পেট্রোলিয়াম জাতীয় দাহ্য পদার্থ। ফলে এসব দোকানে যে কোনো সময় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ও পেট্রোলিয়াম পদার্থ থেকে আগুনের সৃষ্টি হয়ে বড় ধরণের ক্ষতিসহ প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞমহল।

উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ও রাস্তার মোড়ে মোড়ে ঘুরে দেখা গেছে, মুদির দোকান থেকে শুরু করে ঔষধের দোকান, ফলের দোকান, ক্রোকারিজের দোকান ও রেস্তোরাসহ বিভিন্ন ধরনের দোকানে গ্যাসের সিলিন্ডার ও পেট্রোল বিক্রি করা হচ্ছে।

জানা যায়, সরকারী বিধি মোতাবেক ও বিস্ফোরক পরিদপ্তরের মতে গ্যাস সিলিন্ডার, পেট্রোল, মবিল বিক্রির জন্য কমপক্ষে ফ্লোর পাকা, অথবা আধপাকা ঘর, ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপণ লাইসেন্স ও অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রসহ মজবুত ও ঝুঁকিমুক্ত সংরক্ষণাগার থাকতে হবে। উল্লেখিত নিয়মানুযায়ী একজন ব্যবসায়ী ওই সকল শর্ত পূরণ করলেই কেবল বিস্ফোরক লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য হয়। বিস্ফোরক লাইসেন্স ছাড়া কোনো দোকানে কোনো ক্রমেই গ্যাস সিলিন্ডার ও পেট্রোলিয়াম জাতীয় দাহ্য পদার্থ বিক্রি করা যাওয়ার কথা নয়।

কিন্তু আইন ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকার পরও কিভাবে গ্যাস সিলিন্ডার ও পেট্রোলিয়াম জাতীয় পদার্থ বিক্রি করছেন তা জানতে চাইলে এলাকার একাধিক দোকানদার বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার ও পেট্রোলিয়াম জাতীয় দাহ্য পদার্থ বিক্রি করতে হলে যে লাইসেন্স লাগে এ বিষয়ে আমরা অনেকেই জানিনা। এছাড়া গ্যাস ও পেট্রোল সরবরাহকারী লোকজনও আমাদেরকে এ বিষয়ে তেমন কিছু বলেননি। এ অবস্থায় উপজেলার অভিজ্ঞমহল মনে করছেন এসব দোকানে প্রশাসনের নজরদারী না থাকায় দিন দিন বেড়েই চলেছে এসব ব্যবসা।

এ ব্যাপারে স্থানীয়রা বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গেলে দেখা যায় রাস্তায় রেখে গ্যাস সিলিন্ডার এবং প্লাস্টিকের পুরাতন বোতলে ভরে পেট্রোল বিক্রি করা হচ্ছে। যা খুবই বিপজ্জনক। কারণ এভাবে যত্রতত্র পেট্রোল বিক্রি করলে এই পেট্রোল দুষ্কৃতকারীদের হাতে পড়ে যে কোনো সময় ঘটে যেতে পারে অনাকাক্সিক্ষত কোনো ঘটনা।

কুলিয়ারচর, কটিয়াদী ও অষ্টগ্রাম উপজেলার দায়িত্বে থাকা ফায়ার সার্ভিস এর ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর নির্মল চন্দ্র সরকার সাংবাদিকদের জানান, গ্যাসের সিলিন্ডারের ব্যবসা করলে অবশ্যই তাকে লাইসেন্স নিতে হবে। নীতিমালা মেনে ব্যবসা করতে হবে।

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সড়কের পার্শে সাজিয়ে রেখে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করা খুবই বিপজ্জনক। এ ছাড়া যত্রতত্র পেট্রোল বা দাহ্য পদার্থ বিক্রির কারণে যে কোনো সময় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডসহ প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি আরো বলেন, সাধারণত ছোট ব্যবসায়ী হলে ফায়ার সার্ভিস থেকে আর বড় ব্যবসায়ী হলে বিস্ফোরক অধিদপ্তর থেকে লাইসেন্স নিতে হয়। তবে আমরা ফায়ার সার্ভিসের নীতিমালা ও এর আইন সংক্রান্ত বিষয়ে উপজেলার প্রত্যেকটি গ্যাস সিলিন্ডার ও পেট্রোলিয়াম জাতীয় দাহ্য প্রদার্থ বিক্রেতা, হোটেল-রেস্টুরেন্ট, রাইছমিল, ডায়াগনস্টিক সেন্টা ও মুদি দোকানসহ সকল দোকানীকে সচেতন করার লক্ষ্যে উপজেলার প্রতিটি হাটবাজারে নিয়মিত পরিদর্শন করে ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনা করছি এবং আলোচনা অব্যাহত আছে। তবে এরই মাঝে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চোখকে ফাঁকি দিয়ে যত্রতত্র গ্যাস সিলিন্ডার ও পেট্রোলিয়াম জাতীয় দাহ্য পদার্থ বিক্রি করছে বলে আমরাও শুনেছি। তবে এসব দোকানগুলো আমরা অচিরেই খোঁজে বেড় করে তাদের সাথে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কাউসার আজিজ সাংবাদিকদের বলেন, যত্রতত্র গ্যাস সিলিন্ডার ও পেট্রোলিয়াম জতীয় দাহ্য পদার্থ বিক্রি ও রাখা সাধারণ মানুষের জননিরাপত্তার জন্য বড় ধরণের হুমকি। যার ফলে গ্যাস সিলিন্ডার ও পেট্রোলিয়াম জাতীয় দাহ্য পদার্থ বিক্রয় ও রাখার সুনির্দিষ্ট বিধিমালা আছে। নীতিমালার বাইরে যত্রতত্র এসব বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। কেউ এ ধরনের কর্মকান্ডে জড়িত থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আরও পড়ুন