চট্টগ্রামের সন্ত্রাসীদের নির্বাচন কমিশনের ‘হুঁশিয়ারি’

আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে কোন ধরনের ব্যত্যয় ঘটানো হলে চট্টগ্রামের সন্ত্রাসীরা এবার টের পাবেন বলে ‘হুঁশিয়ার’ করেছেন নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশের কোন ধরনের ব্যত্যয় ঘটানোর চেষ্টা করা হলে বরদাস্ত করা হবে না। এ ছাড়া চসিক নির্বাচনের সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা যদি আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ আইন শৃঙ্খলার ভঙ্গের চেষ্টা করেন তাহলে প্রার্থিতা বাতিল করতে এক মুহূর্তও দেরি করব না। কোন ধরনের ব্যত্যয় যেন না ঘটে।

শনিবার রাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আয়োজিত প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী-রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহায়ক কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভাশেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

সুষ্ঠু নির্বাচনের শঙ্কা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রামে একটি ওয়ার্ডে দুজন প্রার্থী মুখোমুখি হয়েছেন। অথচ এখনো পোস্টার লাগানো হয়নি, প্রতীক বরাদ্দ হয়নি। তারা শক্তি প্রয়োগ করে নিজেদের ক্ষমতা দেখিয়েছেন। আমি সত্যি সত্যি শঙ্কিত। প্রতীক বরাদ্দের পর এ অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে বড় সমস্যা হবে। দেশের মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে আসলে এ ধরনের কার্যক্রম চালানো সম্ভব কিনা ভেবে দেখতে হবে। আমি শতভাগ এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার নির্দেশ দিচ্ছি। এখানে কোনোরকম ব্যত্যয় দেখতে চাই না। আমি কোন অবস্থাতেই এ ধরনের পরিস্থিতি মানব না। নির্বাচন কমিশনও পরিস্থিতির অবনতি ঘটুক চায় না।

সভায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ভোটারদের উদ্দেশ্যে নির্বাচন কমিশনার বলেন, আপনারা শক্তির যথাযথ প্রয়োগ করবেন। সবাইকে ভিজিবল দেখতে চাই। কোন কার্পণ্য করবেন না। কেউ যদি পোস্টিং ঝামেলা করবে মনে করেন কথা দিচ্ছি আমরা সিরিয়াস আছি। পাশে থাকব। ভোটারদের আশ্বাস দিতে চাই তারা একেবারে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার মধ্যে ভোট দিতে পারবে। এ জন্য আমরা আগেও ভোট গ্রহণে যেমন পদক্ষেপ নিয়েছি এখানে তার চেয়ে বেশি কোন পদক্ষেপ নিতে হবে কিনা ভেবে দেখছি। স্থানীয় প্রশাসন যেটাকে ভালো বলবে সেটি মেনেই কাজ করা হবে।

নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, আইনানুগ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে কি করতে হবে তা শুনতে এখানে এসেছি। একটা সময় ছিল মানুষ যে জায়গার ভোটার সেখানেই থাকতেন। বাসা থেকে হাঁটতে হাঁটতে ভোট দিয়ে চলে আসতেন। এখনের বাস্তবতা ভিন্ন। তখন আমরা যানবাহন বন্ধ করে দিয়ে নির্বাচন করতে পেরেছি। বর্তমানে পুরোপুরি যান চলাচল বন্ধ করে যদি নির্বাচন করতে যাই তাহলে অনেক মানুষকে ভোটদান থেকে পরোক্ষভাবে বিরত রাখার চেষ্টা করছি বলে মনে হবে। যে কারণে আমরা চাইছি সীমিত সংখ্যক হলেও যান চলাচল চালু রাখতে। যাতে কেউ ভোট দান থেকে বিরত না থাকে।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু আজীবন গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। নির্বাচন হচ্ছে গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান উপাদান। নির্বাচন নিয়ে অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হই। অনেক সমালোচনা, মন্তব্য শুনতে হয় কমিশনকে। আমি এটুক বলতে পারি এই নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচনে বিন্দুমাত্র ত্রুটি করে না। সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য আইনানুগ নির্বাচন হবে। আমরা বাস করি বাংলাদেশে। গণতন্ত্র ও নির্বাচনের বিষয় যখন আসে সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে আমাদের তুলনা করা হয়। ৭০০ বছর আগের গণতন্ত্রের দেশ ব্রিটেনের সঙ্গে তুলনা করা হয়। এসব আমরা মেনে নিয়েছি। যত তুলোধুনাই হোক আমাদের কোন আপত্তি নেই। আমাদের একটাই উদ্দেশ্য আমরা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে চাই।

ভোটের দিন অফিস খোলা রাখার পরিকল্পনাও ইসির আছে জানিয়ে তিনি বলেন, স্কুল-কলেজ যেহেতু কেন্দ্র হিসেবে রাখা হবে সেটা খোলা রাখার সুযোগ নেই। নির্বাচনের দিন আমরাই এসব ব্যবহার করব। আমরা ভাবছি, অফিস অর্ধ বেলা খোলা রাখতে। সেটা অবশ্য কমিশনের সিদ্ধান্তের বিষয়।

পোস্টারের ভয়াবহ অবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, লেমিনেটিং পোস্টার কেউ না ছাপালেও ঢাকায় যে পরিমাণ পোস্টার ছাপানো হয়েছে সেরকম হলে চট্টগ্রামে ভয়াবহ অবস্থা হবে। এসব পোস্টার সব ড্রেনে যাবে। বর্ষাকালে চট্টগ্রামকে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়। এ অবস্থার আরও অবনতি ঘটুক তা আমরা চাই না। আমাদের পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখতে হবে। নির্বাচনের পরপর খুব দ্রুত পোস্টার সরাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন-চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন, চসিক নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান, বিজিবি পরিচালক লে. কর্নেল মো. মুনীর হাসান, র‌্যাব অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মশিউর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আমেনা বেগম, আনসার ভিডিপি সহকারী জেলা কমান্ড্যান্ট মো. আনোয়ার হোসেন, ডিজিএফআই উপ-সহকারী পরিচালক মো. আতিকুর রহমান খন্দকার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এজেডএম শরীফ হোসেন, জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মুনীর হোসাইন খান প্রমুখ।


আরও পড়ুন