বরিশালে নিখোঁজ ৪১৮ প্রবাসীর সন্ধান পাচ্ছে না পুলিশ

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় বিদেশ ফেরত ৫৪১ প্রবাসীর মধ্যে হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন মাত্র ১২৩ জন। অথচ গৌরনদী’র ঠিকানা পাসপোর্টে ব্যবহার করে বিদেশ ফেরত বাকি ৪১৮ প্রবাসীর সন্ধান পাচ্ছে না গৌরনদী থানা পুলিশ ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।

তাদের অবস্থান নিশ্চিত না হওয়ায় করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

গৌরনদী বার্থী ইউনিয়নের জহের জাহান ফকির জানান, প্রতিবেশী প্রবাসী হাফিজুল ওরফে হাফিজ ফকির কয়েকদিন পূর্বে ওমান থেকে বাড়িতে এসে হাট-বাজার ও এলাকায় ঘোরাফেরা করতে থাকে। ১৮ মার্চ হাফিজ জ্বর, কাশি ও সর্দিতে আক্রান্ত হলে গৌরনদী হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে গিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে আত্মগোপন করে। ওইদিন থানার এসআই আসাদুজ্জামান খান হাফিজের বাড়িতে এসে তাকে না পেয়ে তার পরিবারের ৬ সদস্যকে ১৪দিন ঘরের মধ্যে থাকার নির্দেশ দেন।

সেই দিন থেকে হাফিজ আত্মগোপণে থাকলেও তার পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরই থাকছেন। কিন্তু বিদেশ ফেরতরা হোম কোয়ারেন্টাইনের নির্দেশনা না মেনে অবাধে ঘোরাফেরা করার কারণে করোনার ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

গৌরনদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহাবুবুর রহমান জানান, ইতালী, গ্রীস, ওমান, যুক্তরাজ্য, কুয়েত, সৌদি, ইরাক, ইরান, চীন, ভারতসহ বিদেশ থেকে ৫৪১ প্রবাসী গৌরনদীর আসার তথ্য পেয়েছেন। এদের মধ্যে ১২৩ প্রবাসীকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। প্রাপ্ত তালিকায় প্রবাসীর নামের সামনে পূর্নাঙ্গ ঠিকানা না দিয়ে খালি শুধুমাত্র গৌরনদী লেখা রয়েছে। তাই বিদেশ ফেরত বাকি ৪১৮ প্রবাসীর অবস্থান এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তিনি জানান, অবস্থান নিশ্চিত হাওয়ার জন্য তাদের সন্ধানে কাজ করছে পুলিশ। তার ধারনা বিদেশ ফেরত বাকিরা গৌরনদীতে অবস্থান না করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করায় তাদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

বরিশাল সিভিল সার্জন ডাঃ মনোয়ার হোসেন বলেন, কোয়ারেন্টাইনে থাকা ১২৩ প্রবাসীর সঙ্গে আমরা সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রাখছি। তাদের প্রত্যেককে ১৪দিন পারিবারিক কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তাদের কারও শরীরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ নেই। তাদের কারও শরীরে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ দেখা গেলে সরকারিভাবে সব ধরনের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।

বিদেশ ফেরত বাকী প্রবাসীদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার জন্য তাদের খুঁজছেন স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা। বিদেশ ফেরত বাকিরা গৌরনদীতে অবস্থান না করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করায় তাদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না বলে জেলা সির্ভিল সার্জন জানান।

গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান জানান, করোনা মোকাবেলার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ শয্যা বিশিষ্ট আইসোলেশন ইউনিট খোলা হয়েছে। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ও ১টি পৌরসভার ৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আইসোলেশন হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা বিদেশ ফেরত কারও শরীরে করোনার লক্ষণ না পাওয়ায় এখনো কেউ ভর্তি হয়নি বলেও জানান ইউএনও।


আরও পড়ুন