করোনায় আরও একজন মারা গেছেন, নতুন রোগী নেই

দেশে করোনাভাইরাসে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে করে মৃতের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ালো পাঁচজনে। আর নতুন করে কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। গতকাল পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিলো ৩৯ জনে। এছাড়া সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭ জন।

বুধবার (২৫ মার্চ) বেলা ১২টা ১০ মিনিটে করোনাভাইরাস সংক্রান্ত অনলাইন লাইভ ব্রিফিংয়ে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এ তথ্য জানান।

সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো রোগী আক্রান্ত হয়নি। তবে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তার বয়স (৬৫), পুরুষ। তিনি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। গ্রামের একটি হাসপাতালে তিনি চিকিৎসা নিয়েছেন। সেখান থেকে তাকে ঢাকা আনা হয়েছিলো। বুধবার সকালে তার মৃত্যু হয়েছে।

আজকের ব্রিফিংএ করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে নাগরিকদের করণীয় তুলে ধরেন তিনি।

গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের উহানে প্রথম শনাক্ত হওয়া করোনাভাইরাস এখন বৈশ্বিক মহামারি। বিশ্বের ১৯৭টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে এ ভাইরাসটি। এখন পর্যন্ত এই প্রাণঘাতী ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা চার লাখ ২১ হাজার ৩৬৭ এবং মারা গেছেন ১৮ হাজার ৮১০ জন। অপরদিকে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে এক লাখ আট হাজার ৩৮৮ জন।

বাংলাদেশে এ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে গত ৮ মার্চ। এরপর দিন দিন এ ভাইরাসে সংক্রমণের সংখ্যা বেড়েছে। সর্বশেষ হিসাবে দেশে এখন পর্যন্ত ৩৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন পাঁচজন।

করোনার বিস্তাররোধে এরই মধ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে সভা-সমাবেশ ও গণজমায়েতের ওপর। চারটি দেশ ও অঞ্চল ছাড়া সব দেশ থেকেই যাত্রী আসা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

বন্ধ করে দেয়া হয়েছে দেশের সব বিপণিবিতান। এছাড়া মুলতবি করা হয়েছে জামিন ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি ছাড়া নিম্ন আদালতের বিচারিক কাজ। এমনকি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলাকে লকডাউনও ঘোষণা করা হয়েছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে আগামী ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বাস, ট্রেন, লঞ্চসহ সব ধরনের গণপরিবহন। এ কার্যক্রমে স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তার জন্য দেশের সব জেলায় মোতায়েন করা হয়েছে সশস্ত্র বাহিনী।


আরও পড়ুন