যে কারণে করোনায় নারীর তুলনায় পুরুষ বেশি মারা যাচ্ছে

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি ইতালিতে-ছয় হাজার ৮২০ জন। তালিকায় এর পরের অবস্থানে আছে স্পেন ও চীন। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এসব দেশে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া মানুষের মধ্যে নারীদের তুলনায় পুরুষের সংখ্যা বেশি।

ইতালির ন্যাশনাল হেলথ ইনিস্টিটিউট জানিয়েছে, দেশটিতে করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে ৬০ শতাংশ পুরুষ। আর আক্রান্ত হয়ে মৃতদের মধ্যে ৭০ শতাংশ পুরুষ।

এশিয়ায় চীনের পর সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ায়। এই দেশটিতেও দেখা গেছে, আক্রান্তদের অধিকাংশই পুরুষ। আর মারা যাওয়াদের মধ্যে পুরুষের হার ৫৪ শতাংশ।

করোনাভাইরাসে লিঙ্গভিত্তিক আক্রান্তের হার জানতে ২০টি দেশের কাছে তথ্য চেয়েছিল সিএনএন। এর মধ্যে কয়েকটি দেশ লিঙ্গভিত্তিক তথ্য দিলেও অন্যরা কেবল মোট আক্রান্তের সংখ্যা জানিয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, ইতালিতে ১০ জন নারীর বিপরীতে ২৪ জন পুরুষ,  চীনে ১৮ জন, জার্মানিতে ১৬ জন, ইরানে ১৪ জন, ফ্রান্সে ১৪ জন ও দক্ষিণ কোরিয়ায় ১২ জন পুরুষ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

এর আগে সার্স ও মার্স ভাইরাসের সময় প্রায় একই চিত্র দেখা গেছে। অর্থাৎ পুরুষের তুলনায় নারীর মৃত্যুর হার কম।

টেক্সাসের ম্যাকগোভার্ন মেডিকেল স্কুলের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. লুইস ওস্ট্রাস্কি-জেইচনার জানান, সার্স ভাইরাসের সংক্রমণের সময় হংকংয়ে পুরুষদের আক্রান্তের হার ছিল বেশি। একইভাবে মার্স ভাইরাসের সংক্রমণের সময় দক্ষিণ কোরিয়া ও সৌদি আরবে পুরুষের মৃত্যু ঝুঁকির হার ছিল বেশি।

এই পার্থক্যের কারণ কী? গবেষকদের মতে, পুরুষের তুলনায় নারীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি শক্তিশালী। কারণ জীবনের একটি অংশে তারা গর্ভে সন্তান ধারণ করে। এই সন্তান তাদেরকে টিকে থাকার অতিরিক্ত সুবিধা দেয়।

তবে ইউনিভার্সিটি কলেজ অব লন্ডনের বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য বিষয়ক অধ্যাপক সারাহ হকস পুরুষদের ভাইরাস সংক্রমণে কাবু হওয়ার পেছনে তাদের জীবনযাত্রাকে দায়ী করেছেন।

প্রাথমিক তথ্যে দেখা গেছে, যাদের উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ফুসফুসে প্রদাহ রয়েছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর তাদের অবস্থাই গুরুতর পর্যায়ে মোড় নিচ্ছে। ইতালি, চীন, জার্মানি, ইরান, ফ্রান্স ও দক্ষিণ কোরিয়ার পুরুষদের মধ্যে এই রোগগুলোতে আক্রান্তের হার বেশি। এর একমাত্র কারণ হচ্ছে তাদের ঝুঁকিপূর্ণ জীবনযাপন।

অধ্যাপক সারাহ হকস বলেন, ‘অধিকাংশ দেশেই আমরা দেখছি নারীদের তুলনায় পুরুষরা অনেক বেশি মাত্রায় ধুমপান ও মদপান করে।’

বিশ্বে ধুমপায়ীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি চীনে। দেশটির ৩১ কোটি ৬০ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ধুমপায়ী। এদের মধ্যে নারী ধুমপায়ী মাত্র ৩ শতাংশ। ইতালিতে ৪৫ লাখ নারী ধুমপায়ীর বিপরীতে পুরুষ ধুমপায়ীর সংখ্যা ৭০ লাখ।

ইতালির ন্যাশনাল হেলথ ইনিস্টিটিউ জানিয়েছে, ‘কোভিড-১৯ আক্রান্তদের তিনভাগেরও বেশি ধুমপায়ীর অবস্থা অধুমপায়ীদের তুলনায় অনেক বেশি গুরুতর।’ এই ধুমপায়ীদের ইনসেনটিভ কেয়ার ইউনিট ও ভেন্টিলেশনের প্রয়োজন দ্বিগুণেরও বেশি।

ইতালির পুরুষদের উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যাও বেশি। একই সমস্যা চীনেও। তবে তাদের আবার যুক্ত হয়েছে ডায়াবেটিস সমস্যা। পুরুষদের জীবনযাপন ব্যবস্থাই এখন তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।


আরও পড়ুন