বিশ্বজুড়ে করোনা কেড়ে নিলো প্রায় ৪০ হাজার প্রাণ

বিশ্বের মোট ১৯৯টি দেশে আঘাত হেনেছে ভয়ঙ্কর করোনা ভাইরাস। প্রতি ঘণ্টায় বাড়ছে নতুন আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। এই ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করে পেরে উঠছে না যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইতালি, ফ্রান্স ও জার্মানির মতো জ্ঞান-বিজ্ঞানে এগিয়ে থাকা পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোও।

পৃথিবীতে এখন পর্যন্ত করোনায় প্রায় ৪০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তবে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে ইতালি ও স্পেনে।

ওয়ার্ল্ডোমিটারের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে জানা যায়, রোববার সকাল ১১টা পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বিশ্বের ছয় লাখ ৬৪ হাজার ৫৬৪ জন। মারা গেছেন ৩০ হাজার ৮৯০ জন। আক্রান্তদের মধ্যে এক লাখ ৪২ হাজার ৩৬৮ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন বিশ্বের আরও চার লাখ ৯১ হাজার ৩০৬ জন মানুষ। এদের মধ্যে ২৫ হাজার ২২৩ জনের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন।

করোনায় সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছে ইতালিতে। দেশটিতে শনিবার পর্যন্ত ১০ হাজার ২৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আক্রান্ত ৯২ হাজার ৪৭২ জন।

যুক্তরাষ্ট্রই প্রথম দেশ যেখানে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২৩ হাজার ৭৫০ জন। রোববার সকালে মাত্র কয়েক ঘণ্টায় দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৭২ জন। নতুন মারা গেছেন আরও ৬ জন। ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২২৭য়ে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুহার এখনও ইতালি ও ইউরোপের কয়েকটি দেশের চেয়ে কম।

শুধু নিউইয়র্ক রাজ্যেই ২৬ হাজার ৬৯৭ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ২৪ ঘণ্টায় নিউইয়র্কে ১৪৪, ওয়াশিংটনে ১৭৫ এবং লুইজিয়ানায় ১১৯ জন মারা গেছেন। নিউইয়র্ক পুলিশের ৫০০ সদস্যও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

মোট আক্রান্তের সংখ্যায় চীন ও ইতালিকে ছাড়িয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। চীনকে ছাড়িয়ে গেছে ইতালিও। আর মৃত্যুর সংখ্যায় ইতালির পর স্পেনও চীনকে ছাড়িয়ে গেছে। চীনে আক্রান্তের সংখ্যা ৮১ হাজার ৪৩০। স্পেনে মারা গেছে মোট ৫৯৮২ জন এবং আক্রান্ত হয়েছেন সর্বমোট ৭৩ হাজার ২৩৫ জন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণে যুক্তরাজ্যে শনিবার আরও ২৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটিতে এ ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে একদিনে মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনা এটি। এ নিয়ে যুক্তরাজ্যে মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার ১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। আক্রান্তের মোট সংখ্যা বেড়ে ১৭ হাজার ৮৯ জনে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত করোনা শনাক্ত রোগী ৪৮ জন। সরকারি হিসাবে মোট মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। তবে শনিবার পর্যন্ত নতুন করে কেউ আক্রান্ত হয়নি।

প্রসঙ্গত গত ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ চীনের হুবেইপ্রদেশের রাজধানী উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। চীনে ইতিমধ্যে ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তবে মার্চের শুরুর দিক থেকেই সেখানে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব কমতে শুরু করেছে। উহানের পরিস্থিতিও অনেক উন্নত হয়েছে। যে কারণে দীর্ঘ দু মাস ধরে অবরুদ্ধ থাকার পর শনিবার শহরটি খুলে দেয়া হয়েছে।


আরও পড়ুন