কটিয়াদী - May 1, 2020

কলামহল হাট নিয়ে ইউএনও’র বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে সাপ্তাহিক কলামহল হাট নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. আকতারুন নেছার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালায় একটি চক্র। গত দু’সপ্তাহ ধরে কলামহল হাট নিয়ে ইউএনও’র নাম ব্যবহার করে বাজার পরিচালনা করছে। অথচ এই ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. আকতারুন নেছা।

জানা যায়, বৈশ্বিক দুর্যোগ মোকাবেলা জন্য সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাপ্তাহিক হাট বসতে পারবে না এবং ছোট-বড় বাজার গুলো নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ফাঁকা জায়গায় স্থানান্তর করার নির্দেশ দেয়া হয়। সে প্রেক্ষিতে গত বুধবার (২২ এপ্রিল) উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাপ্তাহিক হাট বন্ধ থাকবে জানিয়ে মাইকিং করা হয়। তারপর বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই প্রশাসন বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের মোতায়েন করা হয়।

কিন্তু, এতো নিরাপত্তার পরও একটি চক্র সাপ্তাহিক কলামহল হাট নিয়ে ইউএনও’র নাম ব্যবহার করে মসজিদে এবং বাজারে মাইকিং করেন। মাইকিংয়ে বলা হয়, কটিয়াদী কলামহল সাপ্তাহিক হাট স্থানান্তর করা হয়েছে চরঝাকালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে। সেখানে বলা হয়, নির্দেশক্রমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। অথচ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালেও চরঝাকালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গনের আঙ্গিনায় জমজমাট ভাবে কলামহল হাট বসানো হয়। পরে সংবাদ পেয়ে বাজার পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. আকতারুন নেছা।

ফেকামারা ফাজিল মাদ্রাসার নৈশপ্রহরি মোবারক হোসেন বলেন, ‘আমাকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুশতাকুর রহমানের মাধ্যমে কলামহল হাট স্থানান্তরের বিষয়টি মাইকিং করতে বলা হয়। পরে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য স্থানীয় হারুন, সোহাগ ও ওয়াহীদের মাধ্যমে উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মুঠোফোনে বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করেই হাট স্থানান্তর করা হয়েছে বলে মাইকিং করতে বলে। পরে সে বক্তব্য অনুযায়ী আমি মসজিদে মাইকিং করি। সত্যিকার অর্থে, আমি এই বিষয়ে কিছুই জানতাম না। আমাকে দিয়ে এগুলো করিয়েছে।’

ফেকামারা ফাজিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল রফিকুল ইসলাম জানান, ‘নৈশপ্রহরি মোবারক হোসেন কার বক্তব্য শুনে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নাম ব্যবহার করে মাইকিং করেছে সেটি আমি জানতাম না।’

জালালপুর ইউনিয়নের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান গোলাপ মিয়া বলেন, ‘গত বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত ৯টা দিকে উপজেলা চেয়ারম্যান আমাকে ফোন করে বলেন, আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) কটিয়াদী সাপ্তাহিক বাজার বন্ধ থাকবে। কৃষকরা অনেকেই কলা কেটে ফেলছে। সেক্ষেত্রে এখন কি করা যায়? তারপর চেয়ারম্যান ও ওসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অস্থায়ী কাঁচাবাজার চরঝাকালিয়া বিদ্যালয় মাঠের পাশে কলামহল হাট সাময়িক স্থানান্তর করি।’

কটিয়াদী মডেল থানার (ওসি) এম. এ জলিল বলেন, ‘গত বুধবার (২২ এপ্রিল) রাতে সাধারণ কৃষকদের কথা চিন্তা করে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে যেন কাঁচামাল (কলা) বিক্রি করতে পারে যেজন্য কয়েক ঘন্টার জন্য বাজার বসবে সেটার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু ওইদিন কলামহল হাট বসবে সেটার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি বলে পরিষ্কার করে জানিয়ে দেন।’

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. আকতারুন নেছা বলেন, ‘গত (২২ এপ্রিল) একটি গণবিজ্ঞতিতে কটিয়াদীর সব সাপ্তাহিক হাট বন্ধ থাকবে বলে ঘোষণা করা হয়। কিন্তু একটি চক্র আমার নাম ব্যবহার করে কলামহল হাট স্থানান্তর করে। তবে কলামহল হাট স্থানান্তরের বিষয়ে কারো সাথে আমার যোগাযোগ কিংবা কথা বার্তা হয়নি। এই অপপ্রচারের সাথে যারা জড়িত আছে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।’

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. মুশতাকুর রহমান জানান, ‘গত বুধবার (২২ এপ্রিল) রাতে সাধারণ কৃষকদের কথা চিন্তা করে জালালপুর ইউপি (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যানকে সাথে নিয়ে মডেল থানার (ওসি’র) সাথে আলোচনা করে স্থানান্তরের বিষয়টি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরে ওইদিন রাতেই একটি অপরিচিত নাম্বার থেকে মোবারক হোসেন নামের এক ব্যক্তির ফোন আসে।

ওই ব্যক্তি বলেন, কলামহল হাট বাজারটি কি চরঝাকালিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে স্থানান্তর হয়েছে? এমন প্রশ্ন করা হলে চেয়ারম্যান বলেন, আমরা সাময়িক একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আপনি মসজিদে মাইকিং করতে পারেন বলেও জানান তিনি।’


আরও পড়ুন