পুলিশ কর্মকর্তার রেশন ও ঈদ বোনাসে ৫৫ পরিবারে ঈদের আনন্দ

করোনা পরিস্থিতিতে সম্মুখ যোদ্ধা পুলিশ সদস্যরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করে জনগণের আস্হা অর্জন করেছেন। অনেক পুলিশ সদস্যই মানবিক কার্যক্রমেও প্রশংসনীয় ভুমিকা রাখছেন। কুমিল্লাতে কর্মরত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভীর সালেহীন ইমন তার নিজ এলাকা কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে ঈদ বোনাস ও রেশনের টাকা দিয়ে ৫৫ দরিদ্র পরিবারে ঈদ উপহার পৌঁছে দিলেন।

সাহায্য গ্রহীতা ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধ বলেন ” এহন ভিক্ষা কইম্যা গেছে তিরিশ টেহা সম্বল আছিলো পুলিশের এই টেহাডা পাওনে মাছ কিইনা নিবো আর বাকী টেহা দে ঈদের বাজার করন যাইবু”।

সাহায্য গ্রহীতা আরেকজন জানান, তিনি সাহায্যের এক হাজার টাকা দিয়ে ছোট মেয়েকে একটা জামা কিনে দিবেন।

করিমগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত নাহিদ সুমন অসহায় ৫৫ পরিবারকে ঈদ উপহার পৌঁছে দেন। তিনি বলেন “একজন সৎ, দক্ষ ও মানবিক পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে ইমন স্যার সুপরিচিত। করোনা মহামারির শুরু থেকেই তিনি সার্বক্ষণিক নিজ এলাকার খোঁজ নিচ্ছেন। প্রায় দেড় শতাধিক পরিবারকে ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবে সহায়তা করেছেন। বিশেষ করে প্রতিমাসের রেশন দুস্থ পরিবারকে দিয়ে দিচ্ছেন এবং বলেছেন যতদিন স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে না আসে ততদিন তা চলমান থাকবে। সর্বশেষ নিজের ঈদ বোনাসের অর্থ ৫৫ পরিবারকে দিয়েছেন। এই মহৎ কাজের সাথে সম্পৃক্ত থেকে আমার ভালো লাগছে এবং আমারাও অনুপ্রাণিত হয়েছি।”

করিমগঞ্জ উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান তানভীর সালেহীন ইমন ইতোমধ্যে তার রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদকের এককালীন অর্থ ও প্রতিমাসের ভাতা জমিয়ে করিমগঞ্জে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মৃতি ফলক তৈরি করে যাচ্ছেন। পুলিশিং এর পাশাপাশি লেখালেখি এবং সেবামুখী কর্মকান্ডের সাথে তিনি সম্পৃক্ত রয়েছেন। একজন পুলিশ কর্মকর্তার পেশাদার দায়িত্বের বাইরে মানবিক ও সেবামুখী কার্যক্রম সাধারণ মানুষের কাছে প্রশংসিত হচ্ছে।


আরও পড়ুন