অসহায়দের ২,২৫,০০০ টাকা সহায়তা দিল ‘স্বাবলম্বী আকুবপুর’

দেশের বর্তমান করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় কিশোরগরঞ্জের তাড়াইল উপজেলাধীন তালজাঙ্গাঁ ইউনিয়নস্থ আকুবপুর গ্রামের অসহায় বিধবা, এতিম, হতদরিদ্র দিনমজুর, অটো-রিক্সাচালক, বিভিন্ন কারখানার ছাটাইকৃত শ্রমিক, ছোটখাটো দোকানদার অর্থাৎ করোনা পরিস্থিতির কারণে খাদ্য সংকটসহ মানবেতর জীবনযাপন করছেন এমন মানুষের পাশে দাঁড়াতে গ্রামের সকল বয়সী সচেতন ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে গত ৮ই এপ্রিল “স্বাবলম্বী আকুবপুর” নামে একটি সংগঠনের আত্নপ্রকাশ ও কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়।

এবছর আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এই কমিটি ২,২৫,০০০/- (দুই লক্ষ পঁচিশ হাজার টাকা) বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গতকাল (২০ মে) সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক বিবেচনায় ১০২ জনের একটি তালিকা অনুমোদন করা হয়। তালিকা মোতাবেক আজ (২১ মে) ৭০ জনকে ২০০০ টাকা করে ও ৩২ জনকে ১৫০০ টাকা করে ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়া হয়। এছাড়া নাম পরিচয় গোপন রেখে কয়েকটি পরিবারকে বিশেষ অনুদান প্রদান করা হয়। ঈদের পূর্বমুহূর্তে এরকম সহায়তা পেয়ে পরিবারসমুহ ভীষণ আনন্দিত।

গ্রামের মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, কিশোরগঞ্জ শহরে বসবাস রত আকুবপুর গ্রামের দরদি সন্তান মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়ার উদ্দ্যোগে দেশ বিদেশে অবস্থানরত গ্রামের কৃতি সন্তানদের সমন্বয়ে মো. শরীফুল ইসলামের পরিচালনায় এই মহতী কাজে গ্রামের উদ্যমী তরুণেরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। গ্রামের প্রবীন সদস্যগণ এই কাজে সার্বিক সাহায্য সহযোগিতা প্রদানসহ সামগ্রিক বিষয়টির সমন্বয় সাধন করেন। এই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে বলে উদ্যোক্তারা জানান।

সংগঠনের সমন্বয়ক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া বলেন, স্বাবলম্বী আকুবপুর একটি অরাজনৈতিক সামাজিক সংগঠন। এই গ্রামের বাসিন্দাদের সুখ সমৃদ্ধি ও কল্যাণ সাধনের নিমিত্তে সর্বোপরি সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করার মহান উদ্দেশ্য নিয়ে এই সংগঠন তৈরি হয়েছে। এখন পর্যন্ত এই সংগঠন সফল। মানবিক সহায়তা ছাড়াও এই সংগঠন নানাবিধ কল্যাণ মূলক কাজ করতে বদ্ধ পরিকর। আমি এই সংগঠনের সকল সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। শুরু থেকেই প্রতিটি সদস্য অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে অর্পিত দ্বায়িত্ব পালন করেছেন। আমি বিশেষ ভাবে কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই আমাদের গ্রামের গর্বের ধন প্রকৌশলী সফিকুর রহমান ভুইয়া অনু অনারারি কনসোল জেনারেল, নিউজিল্যান্ড, কর্নেল ডাঃ মাহবুবুর রহমান ভুইয়া, বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মিজানুর রহমান ভুইয়া, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন এর চিকিৎসক ডাঃ মাহফুজুর রহমান ভুইয়া ও স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস এর জিএম মাহমুদুর রহমান ভুইয়াসহ যারা শত ব্যস্ততার মাঝে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান সহ সক্রিয় সহায়তার মাধ্যমে আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করেছেন। এধারা অব্যাহত রাখার জন্য সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করি। আমি মনে করি এই ধরনের উদ্যোগ প্রতিটি গ্রাম নিতে পারে। এতে সরকারি ত্রাণ নির্ভরশীলতা কমার পাশাপাশি সামাজিক বন্ধন মজবুত হবে।

উল্লেখ্য, আকুবপুর একটি ঐতিহ্যবাহী স্বয়ংসম্পূর্ণ গ্রাম। শিক্ষাদীক্ষায় এই গ্রাম অগ্রগামী। বিগত একশত বছরে এই গ্রামে ভিক্ষাবৃত্তি পেশার কোনো লোক নেই। বংশপরম্পরায় গ্রামবাসী বিষয়টি কঠোরভাবে নিবৃত রাখেন। অতীতেও আকুবপুরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ও বিদেশে অবস্থানরত গ্রামের বাসিন্দাদের সমন্বয়ে বিভিন্ন সময় ত্রাণ সহায়তা প্রদান করে আসছে গ্রামের এই সচেতন মহল।


আরও পড়ুন