ইটনা - May 23, 2020

প্রতিপক্ষকে ফাসাঁতে ২ বছরের ভাতিজিকে হত্যা করলো চাচা

কিশোরগঞ্জের ইটনায় বাড়ির সীমানার বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ফাসাঁতে গিয়ে আপন ভাতিজি স্মৃতি আক্তার (২) কে টেটাঁবিদ্ধ করে হত্যা করলো চাচা মহন মিয়া (৩২)।

নিহত শিশু স্মৃতি আক্তার মৃগা ইউনিয়নের জয়সিদ্ধী হাটির জালাল মিয়ার মেয়ে। অন্যদিকে মহন মিয়া একই গ্রামের মৃত মর্তোজ আলীর ছেলে।

২৩ মে শনিবার বিকালে কিশোরগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাদ্দাম হোসেনের কাসখামরায় ঘাতক মহন মিয়া খুনের সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে ১৬৪ ধারায় স্বীকার উক্তিমুলক জবানবন্ধি রেকর্ড করান। জবানবন্ধি শেষে আসামী মহনকে  কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

ইটনা থানার পুলিশ পরিদর্শক ওসি তদন্ত মোহাম্মদ আহসান হাবিব আসামীর স্বীকার উক্তির বিষয়টি নিশ্চিত জানান, মৃগা ইউনিয়নের জয়সিদ্ধী হাটি গ্রামের মর্তোজ আলী মিয়ার চার ছেলে নান্নু মিয়া, দুলাল মিয়া, জালাল মিয়া, ও মহন মিয়া। তাদের বাড়ির সীমানা ও রাস্তা নিয়ে দির্ঘদিন যাবত প্রতিবেশী আব্দুর রহিমের সাথে বিরোধ চলে আসছে। এর মধ্যে গত ২০ মে বুধবার সকালে নিহত শিশুর বাবা জালাল মিয়া তার পুরাতন ঘরের জায়গায় একটি নতুন টিনের ঘর নির্মানের উদ্যােগ নেয়। দুপুরে প্রতিপক্ষ আব্দুর রহিম তার লোকজন নিয়ে ঘর নির্মানে বাধা দেয়।

এ সময় উভয়পক্ষ উত্তেজিত হয়ে বাকবিতণ্ডা ঠেলা ধাক্কা দাওয়া পাল্টা দাওয়া করতে থাকে। এর মধ্যে স্থানীয় লোকজন দুপক্ষ কে নিবৃত করে শালিসে বসে মিমাংসা করে দেয়। ঘটনার পর দুপুর ২ টার দিকে জালাল মিয়া তার হাসেঁর খামার দেখতে ও বড় ভাই নান্নু মিয়া মাছ ধরতে হাওড়ে চলে যায়। এ সুযোগে বাড়িতে থাকা দুলাল ও মহন প্রতিপক্ষকে ফাসাঁতে ফন্দি আটঁতে থাকে। এক পর্যায়ে উভয়েই সিদ্ধান্ত নেয় বাড়ির কোন শিশুকে খুন করে এর দায় প্রতিপক্ষ আব্দুর রহিমদের উপর চাপানো হবে।

পরিকল্পণা অনুযায়ী ঐ দিন সন্ধা ৭টার দিকে বাড়ির একটি ঘরে ঘুমিয়ে থাকা স্মৃতি আক্তারকে তুলে এনে মহন মিয়া প্রথমে বাড়ির উঠানে মাটিতে সজোরে আছার মারে। শিশুটি ভয়ে আর্তনাত করতে থাকলে দুলাল মিয়া ইট দিয়ে শিশুটির মাথায় আঘাত করতে থাকে। মৃত্য নিশ্চিত করতে মহন মিয়া শিশুটির বুকের ডান পাশে টেটাঁবিদ্ধ করে। পরে দুই ভাই সাজানো নাটক সাজাতে প্রতিপক্ষ তাদের বাড়িতে হামলা করেছে বলে ডাকচিৎকার হট্টগুল শুরু করে। তাদের ডাকচিৎকারে এলাকাবাসী তাদের বাড়িতে ছুটে এসে শিশুটিকে টেটাঁবিদ্ধ দেখে হতবাক হয়ে যায়।

খবর পেয়ে ইটনা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত শিশুটির লাশ উদ্ধার করে। পরদিন ২১ মে বৃহস্পতিবার লাশের ময়না তদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রেরন করে। এ দিকে দুই ভাই সাজানো নাটকে প্রতিপক্ষের নামে ইটনা থানায় মামলা দায়ের করার চেষ্টা করে।

এ ব্যাপারে পুলিশ শুরু করে কৌশলী তদন্ত এবং এ বিশেষ তদন্তেই বেরিয়ে আসে প্রকৃত ঘটনা। ২২ মে শুক্রবার রাত পৌনে ১২ টায় মৃগার লাইমপাশা বাজারে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা মহন মিয়াকে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসা বাদে মহন মিয়া খুনের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং প্রতিপক্ষ কে ফাসাঁতে তারা এ ঘটনা সাজিয়েছে।

ইটনা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মুর্শেদ জামান বিপিএম জানান একটি তুচ্ছ ঘটনায় প্রতিপক্ষকে ফাসাঁতে এ নৃশংস খুনের ঘটনাটি ঘটেছে। শুক্রবার রাতে নিহত শিশুটির মা ডলি আক্তার বাদি হয়ে ২ জনকে আসামী করে ইটনা থানায় খুনের মামলা দায়ের করেছে। মামলা রেকর্ডের পরই আসামী মহন মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর পলাতক আসামী দুলাল মিয়াকে গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।


আরও পড়ুন