শিক্ষা - June 8, 2020

উত্তরপত্র পুনঃমূল‌্যায়নের জন‌্য আবেদন পৌনে ৫ লাখ!

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলে সন্তুষ্ট নয় সারা দেশের ২ লাখ ৩৪ হাজার ৪৭১ জন শিক্ষার্থী। ৪ লাখ ৮১ হাজার ২২২টি উত্তরপত্র পুনঃমূল‌্যায়নের জন‌্য আবেদন করেছে তারা।

আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় সাব কমিটি সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জুন শুরু হয় ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন কার্যক্রম। আবেদনের শেষ দিন ছিল গতকাল রোববার (৭ জুন)। ৩০ জুন পুনঃনিরীক্ষিত ফল প্রকাশ করা হবে।

গত ৩১ মে প্রকাশিত হয় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল। এবার পাশের হার ৮২ দশমিক ৮৭ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৮২ দশমিক ২০ শতাংশ। এ বছর মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৯৮ জন, গত বছর পেয়েছিল ১ লাখ ৫ হাজার ৫৯৪ জন।

বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড থেকে জানা গেছে, এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২ লাখ ৩৮ হাজর ৪৭১ জন পরীক্ষার্থী মোট ৪ লাখ ৮১ হাজার ২২২টি উত্তরপত্র পুনঃমূল‌্যায়নের জন‌্য আবেদন করেছে। ঢাকা বোর্ডে ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৬০টি, বরিশালে ২৩ হাজার ৮৫০টি, চট্টগ্রামে ৫২ হাজার ২৪৬টি, দিনাজপুরে ৪০ হাজার ৭৫টি, রাজশাহীতে ৪৪ হাজার ৬১টি, সিলেটে ২৩ হাজার ৭৯০টি, কুমিল্লা বোর্ডে ৩৯ হাজার ৩০৩টি, ময়মনসিংহে ৩১ হাজার ৩৩১টি, মাদরাসা বোর্ডে ২৮ হাজার ৪৮৪টি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ১৭ হাজার ৫৩৮টি খাতা পুনঃমূল্যায়নের জন্য আবেদন করা হয়েছে। ঢাকা বোর্ডে সর্বাধিক ৫৯ হাজার ৭৯০ জন শিক্ষার্থী ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করেছে।

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষার জন‌্য গত বছর আবেদন করেছিল ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৫৮ জন। 

শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একেকজন শিক্ষার্থী এক বা একাধিক বিষয়ের ফল চ্যালেঞ্জ করে আবেদন করেছে। ইংরেজি, গণিত, রসায়ন বিজ্ঞান, পদার্থ বিজ্ঞান, জীব বিজ্ঞান, বাংলা বিষয়ে বেশি আবেদন করা রয়েছে। এসব বিষয়ে আশানুরূপ নম্বর না পাওয়ায় উত্তরপত্র পুনঃমূল্যালয়ের জন্য আবেদন করেছে শিক্ষার্থীরা।

তারা জানান, পাবলিক পরীক্ষার খাতা পুনঃমূল্যায়নের ক্ষেত্রে সবকটি উত্তরে নম্বর দেওয়া হয়েছে কি না, প্রাপ্ত নম্বর গণনা ঠিক আছে কি না, প্রাপ্ত নম্বর ওএমআর শিটে (কম্পিউটারে ফল প্রণয়নে পাঠযোগ্য ফরম) উত্তোলনে ভুল হয়েছে কি না এবং প্রাপ্ত নম্বর অনুযায়ী ওএমআর শিটের বৃত্ত ভরাট ঠিক আছে কি না—এসব বিষয় পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে। বিষয়গুলো ঠিক থাকলে তবে সে খাতা নতুন করে মূল্যায়ন করা হবে। আগামী ৩০ জুন পুনঃনিরীক্ষিত ফল প্রকাশ করা হবে। আবেদন করা শিক্ষার্থীর মোবাইল নম্বরে পুনঃনিরীক্ষিত নম্বর ও গ্রেডসহ ফল পাঠানো হবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, ‘২০ লাখ শিক্ষার্থীর মাঝে আড়াই শতাংশের মতো পরীক্ষার্থী আবেদন করেছে। অনেকে ভাবে, একটা আবেদন করে দেখি, কিছু বাড়ে কি না? অনেকে আবার সিরিয়াসলিই ফল পরিবর্তনের আত্মবিশ্বাস থেকে আবেদন করে।’

তিনি বলেন, ‘এসব আবেদনকারীর মধ্যে কেউ কেউ আছে, যারা এক বা দুই কম পাওয়ায় জিপিএ-৫ পায়নি। আবার কেউ কেউ কৌতূহলী হয়েও আবেদন করে থাকে। আগামী ৩০ জুন পুনঃনিরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে।’


আরও পড়ুন