খেলার খবর - June 8, 2020

শচীনকে আউট করায় বোলারকে খুনের হুমকি!

খেলোয়াড়ী জীবনে রীতিমতো ক্রেজ ছিলেন শচীন টেন্ডুলকার। ভক্তরা তার জন্য একদম পাগল ছিল। শচীন আউট হয়ে গেলে তাদের মাঝে উন্মাদনা প্রবল হয়ে উঠত। ১০০ সেঞ্চুরির মাইলফলকের সামনে দাঁড়ানো শচীন টেন্ডুলকারকে নব্বইয়ের ঘরে আউট করে তাই বিপদে পড়ে গিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের পেসার টিম ব্রেসনান ও আম্পায়ার রড টাকার। তাদেরকে রীতিমতো খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছিল! এতদিন পর সেই ঘটনা আবারও প্রকাশ্যে এলো।

নাগপুরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৯৯তম সেঞ্চুরি করেছিলেন শচীন। তারপর থেকেই শততম সেঞ্চুরির অপেক্ষায় দিন গুনেছিল ভক্তরা। কিন্তু বহু প্রতীক্ষিত সেই সেঞ্চুরি ধরা দিচ্ছিল না। কম রানে আউট হয়ে যাচ্ছিলেন শচীন। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৮৫ ছিল ওই সময়ের মধ্যে সর্বাধিক। ২০১১ সালের ওভাল টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে শচীন যখন ব্যাট করতে নামলেন তখন আবারাও আশায় বুক বেঁধেছিলেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।

শচীনও সাবলীল ব্যাটিং করছিলেন। কিন্তু তিনি যখন ৯১ রানে ব্যাট করছেন, তখন ঘটল অঘটন। টিম ব্রেসনানের ডেলিভারি গিয়ে লাগল তার পায়ে। লেগ বিফোর উইকেটের আবেদনে সাড়া দিলেন আম্পায়ার রড টাকার। যা ভেঙে দিল কোটি কোটি শচীনভক্তের হৃদয়। ৩৫ বছর বয়সী ব্রেসনান সেই ঘটনা নিয়ে বলেছেন, ‘বিসিসিআই চায়নি বলে সেই সিরিজে কোনো রেফারেল ছিল না। ওভালে সেটা ছিল সিরিজের শেষ টেস্ট। ওই বলটা সম্ভবত লেগ স্টাম্পের পাশ দিয়ে বেরিয়ে যেত। কিন্তু আম্পায়ার ভুলে আঙুল তুলে দেন। শচীন নিশ্চিতভাবে সেঞ্চুরি করত। আমরা সিরিজ জিতে যাই, বিশ্বের এক নম্বরও হয়ে উঠি।’

ব্রেসনান আরও বলেন, ‘তারপর আমরা দুজনেই মৃত্যুর হুমকি পাই। আমাকে টুইটারে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। আমর রড টাকারকে অস্ট্রেলিয়াতে বাড়ির ঠিকানায় লিখিত ভাবে পাঠানো হয়েছিল মৃত্যুর হুমকি। লেখা হয়েছিল, কোন সাহসে তুমি আউট দিয়েছিলে? ওই বলটা তো লেগ স্টাম্পে লাগত না। কয়েক মাস পর যখন দেখা হয়েছিল তখন টাকার বলেছিল যে, তাকে বাসায় নিরাপত্তারক্ষী রাখতে হয়েছিল। এমনকি পুলিশি পাহারার ব্যবস্থাও করতে হয়েছিল।’

মজার ব্যাপার হলো, ওই ইনিংসে এই একটি উইকেটই পেয়েছিলেন ব্রেসনান। সেটি ছিল মহামূল্যবান। এর ঠিক ১ বছর ৪ দিন পর ঢাকায় বাংলাদেশের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ১০০ সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন শচীন।


আরও পড়ুন