জিদানের ২০০তম ম্যাচে রিয়ালের স্বস্তির জয়

৩৭ মিনিটের মধ্যেই একটি দল ৩-০ গোলে এগিয়ে গেলে ম্যাচের বাকি অংশে  তাদের মধ্যে একটু ঢিলেঢালা ভাব এসে যায়। তবে গা এলিয়ে দেওয়া নয়, রিয়াল মাদ্রিদের পায়ে দ্বিতীয়ার্ধে যে ফুটবল দেখা গেল তা ক্লান্তি ও শ্রান্তিতে ভরা। তাই ঘরের মাঠে এইবারের বিপক্ষে ৩-১ গোলে জিতেও হয়তো জিদানের দলের চিন্তা হচ্ছে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার চেয়ে বেশ নিষ্প্রভও মনে হয়েছে তাদের।

এই ঘরের মাঠ কিন্তু সেই চিরপরিচিত সান্তিয়াগো বার্নাব্যু স্টেডিয়াম নয়, এটি অনুশীলন ভেন্যু ভালদেবেবাসের স্টেডিয়াম আলফ্রেডো ডি স্টেডিয়াম। রবিবার নতুন এই হোম ভেন্যুতেই কোচকে তার ২০০তম ম্যাচে বড় জয়ই উপহার দিলো রিয়াল মাদ্রিদ।

তবে এই জয়ও ম্যাচ ফিটনেসের ঘাটতিটা ঢাকতে পারেনি। সার্জিও রামোসের উরুতে ব্যান্ডেজ দেখা গেল। ম্যাচের মাঝখানে প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে হয়েছে মার্সেলোকে। ভার্চুয়াল স্টুডিওতে বসে ধারাভাষ্যকার বাংলাদেশ জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া তো সাবধানই করে দিলেন জিদানের দলকে-আগামী ম্যাচ থেকে অনেক উন্নতি করতে হবে তাদের।

ফুটবলে কী হতে পারতো, এমন কথার মূল্য কম। কী হয়েছে সেটিই আসল। করোনার কারণে লিগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে সর্বশেষ ম্যাচটি ২-১ গোলে রিয়াল মাদ্রিদ হেরেছিল রিয়াল বেতিসের কাছে। সে কথা ভাবলে জয়ে ফেরাটাই ছিল মূল লক্ষ্য এবং রিয়াল মাদ্রিদ লক্ষ্যপূরণ করেছে বড় জয়ে। বার্সেলোনার সঙ্গে আবার তাদের দুই পয়েন্টের ব্যবধান। ২৮ ম্যাচ শেষে বার্সেলোনার ৬১, রিয়াল মাদ্রিদের ৫৯। এই জয় আবার চাপে ফেলে দিয়েছে বার্সেলোনাকে।  আগের রাতে মায়োর্কার মাঠে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে মেসিরা বড় জয় তুলে নেওয়ার পর এ ম্যাচ পা হড়কে গেল বিপদ হতো। সেটা হয়নি এবং সেটা হওয়াটা যে কঠিন ৪ মিনিটেই গোল করে বুঝিয়ে দেন টনি ক্রুস। ৩০ মিনিটে গোলের ব্যবধান দ্বিগুন হয় সার্জিও রামোসের গোলে। সাত মিনিট পর মার্সেলোর গোলে ৩-০। এক হাঁটু মুড়ে বসে জর্জ ফ্লয়েডকে গোলটি উৎসর্গ করেছেন ব্রাজিলিয়ান ফুলব্যাক।

অবশ্য দ্বিতীয় গোলটাই রিয়াল মাদ্রিদকে বেশি স্বস্তি দেবে। কারণ এটি বানিয়ে দিয়েছেন এডেন হ্যাজার্ড। চোটের পর ফিরেছেন বেলজিয়ান প্লে-মেকার এবং দারুণ সতেজ দেখাচ্ছে তাকে। রিয়াল আশায়, হয়তো লিগের এই অংশেই পাওয়া যাবে আসল হ্যাজার্ডেকে।  

৬০ মিনিটে পেদ্রো বিগাস দারুণ এক গোল করে রিয়ালকে চিন্তায় ফেলে দিয়েছিলেন। এরপর যদি আরেকটা গোল পেয়ে যেতো অবনমন অঞ্চল থেকে মাত্রই দুই পয়েন্ট ওপরে থাকা এইবার, খেলাটা বোধ হয় জমতো। কিন্তু রিয়াল গোলকিপার থিবো কুর্তোয়ার অসাধারণ দুটি সেভ আর দুর্ভাগ্য তাদের আর গোল পেতে দেয়নি। ৫৮ মিনিটে সার্জি এনরিচের হেড বাধা পায় ক্রসবারে! ৬১ মিনিটে একসঙ্গে তিন খেলোয়াড় বদলেও রিয়াল ধার বাড়াতে পারেনি খেলার। প্রথমার্ধের তিন গোলেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। রদ্রিগোর পরিবর্তে নামেন বেল, রামোসের পরিবর্তে মিলিতাও, হ্যাজার্ডের জায়গায় ভিনিসিয়ুস।

এটা হয়তো সবার জানা যে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর সংস্কারকাজ চলায় রিয়াল তাদের হোম ম্যাচগুলো খেলতে হচ্ছে ভালদেবেবাসের ছোট ডি স্টেফানো স্টেডিয়ামে। যতই ফাঁকা স্টেডিয়ামে খেলার বাধ্যবাধকতা থাক, বার্নাব্যু ছাড়া খেলে কি আর আনন্দ মেলে! এটাও হয়তো গতানুগতিক পারফরম্যান্সের একটা কারণ।

তা হোক, এত লম্বা বিরতির পর জয় দিয়ে শুরু করতে পারাটা গুরুত্বপূর্ণ। আর সে জয় যদি আসে কোচ জিনেদিন জিদানের ২০০তম ম্যাচে, রিয়াল মাদ্রিদের আনন্দই বেশি হওয়ার কথা।


আরও পড়ুন