পাকুন্দিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান বরখাস্ত

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম রেনুকে তার পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।

রোববার (৫ জুলাই) মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. জহিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

কিশোরগঞ্জের স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম রেনু এক মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার আসামি। ওই মামলায় তার বিরুদ্ধে আদালত অভিযোগপত্রও গ্রহণ করেছেন। মামলাটি বর্তমানে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ ২য় আদালতে বিচারাধীন। হত্যা মামলার একজন আসামি উপজেলা চেয়ারম্যান পদে থাকলে পরিষদের প্রতি জনসাধারণের শ্রদ্ধা ও আস্থা বিঘ্নিত হতে পারে। যা পরিষদ বা রাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য হানিকর ও জনস্বার্থ পরিপন্থী। এ জন্য সরকার জনস্বার্থে তাকে তার পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ অবস্থায় উপজেলা পরিষদ আইন, ১৯৯৮ [উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন, ২০১১] এর ১৩খ(১) ধারা অনুসারে পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ থেকে মো. রফিকুল ইসলাম রেনুকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। সেই সঙ্গে পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ কে উপজেলা পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পরিষদের আর্থিক ক্ষমতা দেওয়া হলো।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৪ মার্চ অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্ধিতা করে মো. রফিকুল ইসলাম রেনু চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

এদিকে রফিকুল ইসলাম রেনুকে সাময়িক বরখাস্তের খবরে পাকুন্দিয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছে আওয়ামী লীগের একাংশের নেতাকর্মীরা।

রোববার দুপুরে নারান্দী ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি মিছিল বের হয়ে থানাগেইটের সামনে থেকে ঘুরে এসে একই স্থানে শেষ হয়। এসময় বুরুদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা রুবেল, চণ্ডিপাশা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মো.মঈন উদ্দিন, সাবেক পৌরকাউন্সিলর আসাদ মিয়া, উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি নাজমুল হক দেওয়ানসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


আরও পড়ুন