করোনা - জাতীয় - July 9, 2020

২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৪১, শনাক্ত ৩৩৬০

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ৩ হাজার ৩৬০ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। যার ফলে দেশে মোট করোনা রোগী শনাক্ত হলো ১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৯৪ জন। একই সময়ে নতুন করে ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশে মোট মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ২৩৮ জনের।

বৃহস্পতিবার করোনা সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মহাপরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

তিনি বলেন, ঢাকা সিটিসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ও বাড়িতে উপসর্গবিহীন রোগীসহ গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন তিন হাজার ৭০৬ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৮৪ হাজার ৫৪৪ জন।

তিনি আরো বলেন, সারাদেশে ৭৬টি ল্যাবে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৫ হাজার ৮৬২টি। মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১৫ হাজার ৬৩২টি। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে নয় লাখ চার হাজার ৭৮৪টি।

নাসিমা সুলতানা জানান, ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৪১ জনের মধ্যে ২৯ জন পুরুষ ও নারী ১২ জন। এদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা বিভাগে ১২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৪ জন, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে দুই জন করে ছয় জন, খুলনা বিভাগে ছয় জন, রংপুর বিঅগে তিন জন। এদের মধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ৩৮ জন, বাসায় মারা গেছেন তিন জন।

মৃত্যুদের বয়স বিশ্লেষণে, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে দুই জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে নয় জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ২২ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১১ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে তিন জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে দুই জন, ১১ থেকে থেকে ২০ বছরের মধ্যে এক জন এবং শূণ্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে একজন।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে এসেছেন ৮৭৯ জন ও আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৬৬৮ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশনে এসেছেন ৩৪ হাজার ২২ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৭ হাজার ৬৭ জন।

দেশে করোনায় সংক্রমিত প্রথম রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। তার ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

প্রসঙ্গত, চীনের উহান থেকে বিস্তার শুরু করে গত চার মাসে বিশ্বের ২১৫টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। চীনে করোনার প্রভাব কমলেও বিশ্বের অন্য কয়েকটি দেশে মহামারি রূপ নিয়েছে। দেশে করোনা সংক্রমিত প্রথম রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। তার ১০ দিন পর ১৮ মার্চ প্রাণঘাতী করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

করোনায় মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। এর লক্ষণ শুরু হয় জ্বর দিয়ে, সঙ্গে থাকতে পারে সর্দি, শুকনো কাশি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথা। সপ্তাহখানেকের মধ্যে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। উপসর্গগুলো হয় অনেকটা নিউমোনিয়ার মত। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে এ রোগ কিছুদিন পর এমনিতেই সেরে যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদযন্ত্র বা ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে ডেকে আনতে পারে মৃত্যু।


আরও পড়ুন