‘প্রতিটি কেলেঙ্কারির হোতা সরকারি দলের পদধারী’

দেশের প্রতিটি কেলেঙ্কারির হোতা সরকারি দলের পদ-পদবীধারী নেতা কিংবা সরকারের বিশেষ আনুকূল্যপ্রাপ্ত বলে দাবি করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

শুক্রবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক ভিডিও কনফারেন্সে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, বৈশ্বিক করোনা মহামারী শুরুর পর থেকে বর্তমান সরকার ক্রমাগত ব্যর্থতা প্রদর্শন করে আসছে। একের পর এক এমন হৃদয় বিদারক ঘটনার মধ্যে এখন আবার করোনা টেস্ট নিয়ে ভুয়া সার্টিফিকেট ও জালিয়াতির জন্য বিদেশের গণমাধ্যমে নেতিবাচক খবরের শিরোনাম হচ্ছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশিদের ইতালিতে ঢুকতে না দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এতে প্রমাণ হয় ক্ষমতাসীন সরকার দেশের জনগণের স্বার্থের প্রতি কতটা উদাসীন। সরকারের দৃষ্টি শুধুই যেন প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের প্রতি, প্রবাসীদের স্বার্থের প্রতি নয়।

বিএনপি মুখপাত্র বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কম দেখিয়ে নিজেদের কাগুজে সাফল্য দেখানোর চেয়ে বেশি জরুরি করোনা ভাইরাস টেস্ট নিয়ে দেশে-বিদেশে বাংলাদেশের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন।

‘কারণ, গ্লোবাল ভিলেজের এই সময়ে করোনা ভাইরাস টেস্টের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক বিশ্বে বাংলাদেশ বিশ্বাসযোগ্যতা হারালে ভবিষ্যতে নাগরিকদেরকে অত্যন্ত চড়া মূল্য দিতে হতে পারে, …অদূর ভবিষ্যতে আমাদের নাগরিকদের বিদেশের শ্রম বাজারে থাকা না থাকার বিষয়টিও বেশ ঝুঁকির মধ্যে পড়বে’ আশঙ্কা করছেন তিনি।

রিজভী বলেন, খবর বেরুচ্ছে- স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় করোনা মোকাবেলায় ‘জেকেজি হেলথ কেয়ার এবং রিজেন্ট হাসপাতাল নামে’র কিছু ভুয়া প্রতিষ্ঠানকে ‘করোনা টেস্ট ও ট্রিটমেন্টের’ অনুমোদন দিয়েছে। তাদের একমাত্র যোগ্যতা ছিল এসব ভুয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্ণধাররা ক্ষমতাসীন দলের নেতা কিংবা ঘনিষ্ঠ।

তিনি বলেন, অনুমোদন পেয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতিবাজরা টাকার বিনিময়ে হাজার হাজার মানুষকে রক্ত পরীক্ষা না করেই ‘করোনামুক্ত সার্টিফিকেট’ ইস্যু করতো। এদের সার্টিফিকেট নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গিয়ে আটক কিংবা ফেরত আসতে শুরু করায় এখন সরকারের টনক নড়েছে।

বিএনপি মুখপাত্র বলেন, কখনো হলমার্ক কেলেঙ্কারি, কখনো রিজার্ভ ফান্ড লুট, কখনো ক্যাসিনো কেলেঙ্কারি আর এখন করোনা পরীক্ষা এবং চিকিৎসা নিয়ে কেলেঙ্কারি চলছে। প্রতিটি কেলেঙ্কারির হোতা সরকারি দলের পদ-পদবীধারী নেতা কিংবা সরকারের বিশেষ আনুকূল্যপ্রাপ্ত দুর্নীতিবাজরা।

তিনি বলেন, ভোট ডাকাত, ব্যাংক ডাকাত, দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, করোনার ভুয়া প্রত্যয়নপত্রবাজে এখন দেশ ভরে গেছে।

রিজভী বলেন, ‘দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার থাকলে করোনা কেলেঙ্কারি ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতায় বর্তমান সরকার প্রধানের উচিত ছিল ন্যূনতমপক্ষে জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া। সেটি না করে আমরা দেখলাম প্রধানমন্ত্রীর মুখে ভিন্ন সুর। গতকাল তিনি বলেছেন যে, তারা চোর ধরছেন অথচ তাদেরকেই চোর বলা হচ্ছে।’

এ সময় করোনাকালে সরকারি ব্যর্থতাকে আড়াল করতেই সরকার দেশব্যাপী বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদেরকে মিথ্যা মামলা, গ্রেপ্তার ও কারান্তরীণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিএনপি মুখপাত্র বলেন, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আকরামুল হাসান মিন্টুকে নরসিংদী জেলা শহরের নিজ বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করার ঘটনায় আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, নোয়াখালী জেলাধীন বেগমগঞ্জ থানার চন্দ্রগঞ্জ আলাইয়াপুর ইউনিয়নের সাবেক ছাত্রদল নেতা মো. টিটু হায়দারকে গত তিন দিন আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়ে গেছে। এখনো তার কোনো হদিস দিচ্ছে না। তার পরিবার ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।


আরও পড়ুন