ঈদুল আযহার জামাতও হচ্ছে না শোলাকিয়ায়

ঈদুল ফিতরের জামাতের পর ঈদুল আযহার জামাত হবে না শোলাকিয়া ঈদগাহে। করোনার কারণে মানুষের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও এর আগেই ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঈদুল আযহার নামাজের কোনো জামাত খোলা মাঠ কিংবা ঈদগাহে আয়োজন করা যাবে না।

সোমবার (২৭ জুলাই) কিশোরগঞ্জ কালেক্টরেট ভবনে ১৯৩ তম ঈদুল আযহার প্রস্তুতি সভা শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন ঈদ উদযাপন প্রস্তুতি কমিটির সভাপতি কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী।

জুম ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে অনুষ্ঠিত এই সভায় জেলার পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবদুল্লাহ আল মাসউদ, সিভিল সার্জন ডা. মো. মুজিবুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদিরসহ ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সদস্যরা অংশ নেন।

সভায় জানানো হয়, শহরের শহীদী মসজিদের সকাল ৮টা ও ৯টায় পর পর দু’টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া পাগলা মসজিদের সকাল ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে এ ঐতিহাসিক ঈদগাহ ময়দানের ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠানও বন্ধ ঘোষণা করে জেলা করোনা প্রতিরোধ এবং ঈদ ঈৎসব উদযাপন কমিটি। মূলত প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সোশ্যাল ট্রান্সমিশন রুখতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ শহরের উপকণ্ঠে নরসুন্দা নদীর তীরে দুইশত বছরের পুরনো ও ঐতিহ্যবাহী এ ঈদগাহ ময়দানে প্রতি বছর দেশ বিদেশের তিন লাখেরও বেশি ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ঈদের জামাতে নামাজ আদায় করেন। এই ঈদগাহ ময়দানটি দেশ এমনকি উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাতের খ্যাতি অর্জন করেছে।

২০১৬ সালের ৭ জুলাই ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য, এক গৃহবধূ ও দুই জঙ্গিসহ ৫ জন নিহত হয়। তারপরও ভাটা পড়েনি এ ঐতিহাসিক ঈদগাহ ময়দানের ঈদের জামাতে মুসল্লিদের সমাগমে।


আরও পড়ুন