পাঞ্জাবে ভেজাল মদপানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০৮, আটক ৩০

ভারতের পাঞ্জাবে ভেজাল মদপানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১শ’ ৫ জনে দাঁড়িয়েছে। সোমবার (০৩ আগস্ট) স্থানীয় প্রশাসন এ তথ্য জানিয়েছে।

বুধবার প্রথম ওই ঘটনায় প্রথম ব্যক্তির মৃত্যু হয়। শুক্রবার মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ২১ জনে। ওইদিনই বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। শুক্রবারের পর মারা গেছেন আরো ৮৪ জন। এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তারন তারান জেলায় এ পর্যন্ত ৫ জন মারা গেছে। অমৃতসর এবং বাতালায় মারা গেছে ২৫ জন। এর আগে ঘটনা অনুসন্ধানে বিশেষ তদন্তের নির্দেশ দেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী আমারিন্দর সিং। জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকয় ভেজাল মদ তৈরি হতো বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন জানতো। তাদের কাছে অভিযোগও দেয়া হয়েছে বলে জানান তারা। 
ঘটনার পরই সাত শুল্ক কর্মকর্তা, ৬ পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করেছে রাজ্য প্রশাসন। বিরোধীদের অভিযোগ ভেজাল মদ বাণিজ্য জড়িত খোদ ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরাও।

সোমবার রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। আটক করা হয়ে মদ তৈরি, বাজারজাত এবং বিক্রির সঙ্গে জড়িত অন্তত ৩০ জনকে। জব্দ করা হয় কয়েক হাজার লিটার ভেজাল মদ।

প্রাথমিক তদন্তে পান করা মদে মিথানলের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। যা অতিরিক্ত পরিমাণে পানকারী অন্ধ হতে পারে। ঢলে পড়তে পারে ‍মৃত্যেুর কোলে।

ভারতের গরিব বা স্বল্প আয়ের মানুষের পক্ষে লাইসেন্স করা মদের দোকান থেকে মদ কেনার ক্ষমতা নেই। তাই তারা অল্প দামে ওইসব মদ পান করে থাকে। ভেজাল মদ খেয়ে দেশটিতে প্রতিবছর গড়ে ১ হাজার মানুষ মারা যায়। সাধারণত মানহীন এসব পানীয় ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল অ্যালকোহল এবং বিভিন্ন বিষাক্ত উপাদান মিশিয়ে বানানো হয়।

এর আগে গেলো বছর বিষাক্ত মদ খেয়ে ১শ’ ৫১ জন মারা যায়। তাদের বেশিরভাগ চা-শ্রমিক। যা দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসে ভেজাল মদপানে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা।


আরও পড়ুন