বৈরুতে জরুরি অবস্থা, গৃহহীন ৩ লাখ মানুষ

লেবাননের বৈরুতে ২ সপ্তাহের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। রাজধানীর নিরাপত্তার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সেনাবাহিনীকে। বুধবার (০৫ আগস্ট) মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। অনুমোদ দেয়া হয়েছে ৬ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলারের জরুরি তহবিল। 

মঙ্গলবার (০৪ আগস্ট) বৈরুতের বন্দরের ১২ নম্বরে হ্যাঙ্গারে রাখা অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়। এতে শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত ৪ হাজারের বেশি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অসংখ্য ঘরবাড়ি, স্থাপনা। বাস্তুচ্যুত হয়েছে কমপক্ষে ৩ লাখ মানুষ। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৫শ’ কোটির বেশি বলে জানিয়েছে শহর কর্তৃপক্ষ। 

ঘটনা অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। ৫ দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বন্দরের হ্যাঙ্গারের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের শিগগিরই গৃহবন্দি করা হবে জানানো হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের গৃহবন্দি রাখার বিষয়টি দেখভালের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সেনাবাহিনীকে। আইনমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানদের নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বিস্ফোরণের পর বন্দর কর্মকর্তারা প্রশ্নের মুখে পড়েছেন। বন্দরের মহাপরিচালক জানিয়েছেন আদালতের নির্দেশে তারা অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট গুদামে রেখেছেন। বন্দর মহাপরিচালক হাসান কোরাইতেম জানান, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ, জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগ কর্তৃপক্ষকে নাইট্রেটগুলো সরিয়ে নেয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

এদিকে, লেবাননকে সহায়তায় উদ্ধারকর্মী পাঠাচ্ছে ফ্রান্স। উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ রওয়ানা দেবেন বলে জানানো হয়। শতাধিক ফায়ারসার্ভিস কর্মীসহ জরুরি সহায়তা সেবা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন। চেক রিপাবলিক, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, পোল্যান্ড, নেদারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ সহযোগিতায় অংশ নিয়েছে।


আরও পড়ুন