বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

জাতীয় শোক দিবসে স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বঙ্গবন্ধুর ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার ভোরে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তিনি।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর। সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার দেয়।

পরে বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্টের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধুর আরেক কন্যা শেখ রেহানা।

ধানমন্ডির পরে প্রধানমন্ত্রী যান বনানী কবরস্থানে। সেখানে বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণীসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তিনি।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ করেন। পরে মোনাজাতে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনাসহ দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করা হয়।

এছাড়া করোনা পরিস্থিতির কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আওয়ামী লীগ, ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোটসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে বাঙালি জাতির ইতিহাসে কলঙ্ক লেপন করেছিল সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্য। তাদের নির্মম বুলেটে সেদিন ধানমন্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বর সড়কের বঙ্গবন্ধু ভবন রক্তে রঞ্জিত হয়। বুলেটে ঝাঁঝরা করে দেয় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বুক।

সেদিন ঘাতকদের হাতে একে একে প্রাণ হারিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল।

ইতিহাসের এই জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর অনুজ শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছেলে আরিফ, মেয়ে বেবি ও সুকান্তবাবু, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শেখ ফজলুল হক মনি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি এবং আবদুল নাঈম খান রিন্টু ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ সদস্য ও ঘনিষ্ঠজন।

ওই সময় দেশে না থাকায় প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর বড় মেয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এবং ছোট মেয়ে শেখ রেহানা।


আরও পড়ুন