অষ্টগ্রাম - August 25, 2020

অস্টগ্রামে চার’শ বছরের ঐতিহাসিক কুতুব শাহ মসজিদের সংস্কার কাজ উদ্বোধন

কিশোরগঞ্জের প্রত্নস্থলের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় চার’শ বছরের ঐতিহাসিক কুতুব শাহ মসজিদের সংস্কার কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও অস্টগ্রাম উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে কুতুব মসজিদের সংরক্ষণ ও সংস্কার কাজের শুভ উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতিপুত্র রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক।

পুরাকীর্তিটির ফলক উন্মোচনশেষে সংক্ষিপ্ত মোনাজাত করা হয়। পরে মসজিদ প্রাঙ্গণে এক আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোঃ হান্নান মিয়া। প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন অস্টগ্রাম উপজেলার চেয়ারম্যান মোঃ শহিদুল ইসলাম জেমস, অস্টগ্রাম ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মস্তোফা আরিফ খান প্রমুখ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অস্টগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রফিকুল আলম, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক রাখী রায়, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ ছাদেকুজ্জামান, সদ্য এলপিআরে যাওয়া প্রকৌশলী জাকির হোসেন চৌধুরী, সহকারী প্রকৌশলী ফিরোজ আহমেদ, মোঃ মোতাহের হোসেন, আর্কিটেক্ট জুবায়ের, সাইট পরিচারক আমিনুল হকসহ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারী ও হযরত কুতুব শাহ রহ. এর ভক্তগণ, স্থানীয় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

প্রায় সাড়ে চার’শ বছরের পুরোনো পাঁচ গম্বুজ বিশিষ্ট কুতুব শাহ মসজিদটি অস্টগ্রামের হাওড়ের বুকে টিকে আছে। দেশের পুরাকীর্তিগুলোর অন্যতম নিদর্শন কুতুব শাহ মসজিদটির ইতিহাস ঐতিহ্য সুপ্রশিদ্ধ। প্রায় ৭৩ শতাংশ ভূমির উপর মসজিদটির অবস্থান। পাঁচ গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটিতে কুতুব শাহের মাজার ও আরও পাঁচটি মাজারে কোনো শিলালিপি বা তারিখ পাওয়া যায়নি। তবে এটি ষোড়শ শতাব্দীতে নিমির্তি হয়েছে বলে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ধারণা। গত ২৪ আগষ্ট মহামান্য রাষ্টপতিপুত্র (ইটনা,মিঠামইন-অস্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মসজিদটির সংস্কার কাজের শুভ উদ্বোধন করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ঐতিহাসিক কুতুব মসজিদটি এতদা লের ঐতিহ্যের ধারক বাহক। আমার পিতা মহামান্য রাষ্ট্রপতি যখন নির্বাচনী প্রচারণা চালাতেন তখন এখান থেকেই সর্ব প্রথম প্রচারণা শুরু করতেন। আমিও যখন নির্বাচনে অংশ নেই তখন এখান থেকেই শুরু করেছিলাম। এ মসজিদটির সংস্কার কাজ শুরু হচ্ছে জেনে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরকে সাধুবাদ জানাই। সেই সাথে আমার নিজ উপজেলা মিঠামইনের কাটখাল ইউনিয়নের ঐতিহাসিক দিল্লীর আখড়াটিকেও পুরাকীর্তি হিসেবে সংরক্ষণের জন্য অনুরোধ জানাই।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোঃ হান্নান মিয়া বলেন, ঐতিহাসিক কুতুব মসজিদটি বাংলার মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য গর্বের। ১৯০৯ সালের ১৭ আগষ্ট সরকার মসজিদটিকে পুরাকীর্তি হিসেবে গেজেটভূক্ত করেছে। সংরক্ষিত এ পুরাকীর্তির সংরক্ষণ ও সংস্কার কাজের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মহামান্য রাষ্টপতির নির্দেশনা অনুযায়ী প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের চলমান কাজের অংশ হিসেবে কুতুব মসজিদে বর্তমান অর্থ বছরে ২০২০-২০২১ কুতুব মসজিদটির সংস্কার কাজ শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের এ সংস্কার কাজ ছাড়াও মহামান্য রাষ্ট্রপতির অভিপ্রায় অনুযায়ী কিশোরগঞ্জ জেলায় ঈশা খাঁ স্মৃতি জাদুঘর স্থাপন এবং এতদা লের প্রত্নস্থল সমূহের সংস্কার-সংরক্ষণ ও উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্প প্রণয়নের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রকল্পের অংশ হিসেবে জঙ্গলবাড়ির সংস্কার-সংরক্ষণ ছাড়াও এখানে একটি প্রত্নতাত্তি¡ক জাদুঘর নির্মাণ করা হবে। উক্ত জাদুঘরে বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির কর্ণার ও বর্তমান রাষ্ট্রপতির কর্ণার স্থাপন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং প্রায় ৪০ কোটি টাকার প্রক্কলন ব্যয়ের একটি ডিপিপি অনুমোদনের জন্য সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে দাখিল আছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ২০ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এছাড়া প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্তৃক ভৈরব উপজেলার রাজ কাছারীতে একটি প্রত্নতাত্তি¡ক প্রদর্শনী কেন্দ্র স্থাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। উক্ত রাজ কাছারী হতে উপজেলা ভূমি অফিস স্থানান্তরের প্রস্তাব ভূমি মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। ভূমি অফিস স্থানান্তর হলেই উক্ত স্থানে প্রদর্শনী কেন্দ্র স্থাপন করা যাবে। ঐ কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি কর্ণার, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান কর্ণার ও ঐতিহ্য কর্ণার স্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে।


আরও পড়ুন