কিশোরগঞ্জে কৌশলে কোচিং বাণিজ্য

পড়ানো হয় দরজা বন্ধ করে, মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি

করোনা ভাইরাস রোধে যখন সারাদেশে স্কুল কলেজ বন্ধ করে দিয়েছে সরকার আর প্রশাসন ব্যস্ত করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের বিভিন্ন কর্মকান্ডে ঠিক তখনই কিশোরগঞ্জের নতুন কৌশলে স্কুল-কলেজ ব্যাগের বদলে শপিং ব্যাগে বই-খাতা নিয়ে চলছে বিভিন্ন শ্রেণির প্রাইভেট ও কোচিং বাণিজ্য। এসব প্রাইভেট ও কোচিং সেন্টারে মানা হচ্ছে না সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব।

উপজেলার সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কতিপয় শিক্ষকসহ বেকার শিক্ষিত যুবকেরা সরকারি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে সকাল-দুপুর ও বিকেলে চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের প্রাইভেট ও কোচিং বাণিজ্য। পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে বাসা-বাড়ি ভাড়া নিয়ে নামে-বেনামে চালানো হচ্ছে এসব প্রাইভেট ও কোচিং বাণিজ্য। প্রশাসনকে ফাঁকি দিতে কৌশল পাল্টিয়ে শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজ ব্যাগের বদলের ব্যবহার করা হচ্ছে শপিং ব্যাগ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরে গাইটাল ফার্মের মোড়, খরমপট্টি, নগুয়া শেষ মোড়, হয়বতনগর, হারুয়া, পুরাতন কোর্ট রোড, গাইটাল শিক্ষকপল্লী, নিউটাউন, উকিলপাড়া এলাকায় নিজ নিজ বাসা-বাড়ি কিংবা ভাড়ায় নেয়া বাসা-বাড়িতে নামে-বেনামে চলছে প্রাইভেট ও কোচিং সেন্টার এবং সাপ্তাহিক পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বিভিন্নভাবে শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ করে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চালানো হচ্ছে প্রাইভেট ও কোচিং সেন্টার। স্বাস্থ্য বিধি না মেনে শিক্ষার্থী নিয়ে গাদাগাদি চলছে এসব প্রাইভেট ও কোচিং সেন্টারের কার্যক্রম। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের প্রতি কড়া নির্দেশনা থাকছে স্কুল ব্যাগের বদলে শপিং ব্যাগে বই-খাতা আনাসহ কেউ জিজ্ঞাসা করলে বলতে হবে বাজার করে আসলাম। শিক্ষার্থীরাও সেই মিথ্যা তথ্যের ওপর ভর করেই কথিত শিক্ষকদের নির্দেশনা অনুযায়ী স্কুল ব্যাগের বদলে ব্যবহার করছে শপিং ব্যাগ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘করোনাভাইরাসের সংক্রমনে লেখাপড়া প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বাসায় ঠিকমতো পড়ালেখা হচ্ছে না। স্যারেরা বিভিন্ন কৌশলে প্রাইভেট পড়াচ্ছেন জেনে পড়া শুরু করেছি। প্রাইভেট-কোচিংয়ে না পড়লে পাস করবো কীভাবে?

কয়েকজন অভিভাবক জানান, বর্তমানে ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখা একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। মাঠে খেলা বন্ধ থাকায় সারাদিন ফেসবুক, মোবাইলে গেমস আর টিভি নিয়ে ব্যস্ত থাকছে। প্রাইভেট ও কোচিংয়ে না পড়লে পাস করতে সমস্যা হবে বলেই প্রাইভেট ও কোচিংয়ে পাঠাতে হচ্ছে।

একাধিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কতিপয় শিক্ষক গোপনে নিজ নিজ বাসা-বাড়িতে প্রাইভেট পড়াচ্ছেন। এতে শিক্ষার্থীরা ঝুঁকিতে পড়ছে। এটা দ্রুত বন্ধের পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।

জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ জুলফিকার হোসেন জানান, সরকারি নিষেধাজ্ঞা স্বত্বেও কেউ যদি প্রাইভেট ও কোচিং সেন্টার খোলা রাখে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হবে।


আরও পড়ুন