বরখাস্ত হওয়ার ক্ষোভে ইউএনওকে হত্যার চেষ্টা করে রবিউল

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমকে হত্যাচেষ্টা মামলায় দুই দফা রিমান্ড শেষে আসামি রবিউল ইসলাম আদালতে ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। 

আজ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইসমাইল হোসেনের আদালতে তিন ঘণ্টা জবানবন্দি দেন বলে জানিয়েছেন দিনাজপুর কোর্ট পরিদর্শক ইসরাইল হোসেন।

এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশ ডিবির ওসি ইমাম আবু জাফরও রবিউল ইসলাম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। 

তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘গত জানুয়ারিতে ইউএনও ওয়াহিদা খানমের ব্যাগ থেকে টাকা চুরির অভিযোগে ইউএনও তার অফিসের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী (মালি)  রবিউল ইলামকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। এ কারণে রবিউল ক্ষুব্ধ হন। ১ সেপ্টেম্বর তাকে চাকরি থেকে চূড়ান্ত বরখাস্ত করা হয়। আর এতেই রবিউল আরও ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নিয়ে হামলা করেন।’ 

রবিউল একাই ইউএনও এবং তার বাবাকে হত্যার চেষ্টা করেন বলে জানিয়েছেন তিনি। 

এর আগে সকাল ১০টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে রবিউল ইসলামকে হেলমেড পরিয়ে দিনাজপুর জেলা আদালতে নিয়ে আসে পুলিশ। বিকেলে জবানবন্দি দেওয়ার পর আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে পুলিশ তাকে দিনাজপুর জেলা কারাগারে নিয়ে যায়। 

গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্দেহভাজন রবিউল ইসলামকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজের দোষ স্বীকার করেছেন বলে তখন পুলিশ গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল।

প্রথম দফা রিমান্ড শেষে রবিউল ইসলামকে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আনজুমান আরার আদালতে হাজির করে আরও সাত দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।  

গত ২ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে সরকারি বাসভবনের ভেন্টিলেটার ভেঙে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা ইউএনও ওয়াহিদা খানম এবং তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা শেখ ওমর আলীকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করে।


আরও পড়ুন