‘মৃত’ কিশোরীর জীবিত ফেরার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ

নারায়ণগঞ্জে কথিত গণধর্ষণ ও হত্যার পর ‘নিহত’ স্কুলছাত্রীর (১৫) জীবিত ফিরে আসার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

এ সংক্রান্ত একটি রিভিশন আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

আদেশে বলা হয়েছে, নারায়ণগঞ্জের মুখ্য বিচারিক হাকিম তদন্ত সাপেক্ষে আগামী ৪ নভেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দেবেন। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী, আসামিপক্ষ বা রাষ্ট্রপক্ষ চাইলে এ তদন্তে নিজেদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োজিত করতে পারবেন।

কিশোরীর বাবার করা মামলার নথি, বর্তমান ও আগের দুই তদন্ত কর্মকর্তাকে গত ২৭ আগস্ট এক আদেশে ১৭ সেপ্টেম্বর তলব করেছিল হাইকোর্ট। এর প্রেক্ষিতে ওই দিন মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা শামীম আল মামুন হাজির হয়ে ঘটনার বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন।

একই দিন মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক (অপারেশন) আবদুল হাই ওই কিশোরীর জবানবন্দিসহ সকল নথি আদালতে দাখিল করেন। হাইকোর্ট এ বিষয়ে আদেশের জন্য আজ বৃহস্পতিবার ধার্য রাখেন।

নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় করা কিশোরীর বাবার মামলা এবং মামলা পরবর্তী প্রক্রিয়ার শুদ্ধতা, বৈধতা এবং যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে গত ২৫ আগস্ট হাইকোর্টে পাঁচ আইনজীবীর পক্ষে রিভিশন মামলাটি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। আবেদনের পক্ষে তিনি শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী।

মামলার নথিপত্র ও আইনজীবীর বরাতে জানা যায়, গত ৪ জুলাই পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই ছাত্রী নিখোঁজ হওয়ার পর ৬ আগস্ট তার বাবা জাহাঙ্গীর হোসেন নারায়ণগঞ্জ থানায় অপহরণ মামলা করেন।

এরপর পুলিশ আবদুল্লাহ (২২), রকিব (১৯) ও খলিল (৩৬) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। দুই দফা রিমান্ডের পর নারায়ণগঞ্জের বিচারিক হাকিমের আদালতে তিনজন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

জবানবন্দিতে তারা জানান, কিশোরীকে গণধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ২৩ আগস্ট জানা যায় কিশোরীকে খুঁজে পাওয়া গেছে এবং পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। এরই মধ্যে সে ইকবাল নামে একজনকে বিয়েও করেছে।


আরও পড়ুন