গাইবান্ধায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত

ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের টোংরাদহ এলাকায় সোমবার রাতে করতোয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

তীব্র বেগে পানি প্রবেশ করে ডুবে যাচ্ছে ওই ইউনিয়নের রাস্তাঘাট, আমন ধানের ক্ষেত ও শাকসবজিসহ বিভিন্ন ফসলি জমি। ইতিমধ্যে ৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার মানুষ। পানিবন্দী হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে আরও  ১৬টি গ্রাম।

পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুজ্জামান বলেন, মঙ্গলবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ ও বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। পানি দীর্ঘস্থায়ী হলে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে সহযোগিতা করা হবে।

এদিকে করতোয়া নদীর পানি বিপৎসীমা পেরিয়ে যাওয়ায় গোবিন্দগঞ্জের দরবস্ত, শিবপুর, সাপমারা, নাকাই, কাটাবাড়ি, ফুলবাড়ি, হরিরামপুর, মহিমাগঞ্জ, রাখালবুরুজ ও তালুক কানুপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পানি ঢুকছে। এতে করে প্লাবিত হয়েছে কয়েক হাজার একর ফসলি জমি।

শুধু তাই নয়, করতোয়ার পানি বেড়ে যাওয়ায় বাঁধ উপচে গিয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা শহরেও। এতে করে প্লাবিত হয়ে পড়েছে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন আবাসিক এলাকা। এতে করে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে রোগী ও মানুষদের। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বন্যাকবলিতদের মধ্যে বিতরণের জন্য ৫ মেট্টিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে নদ-নদীগুলোতে পানি বেড়ে যাওয়ায় জেলা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদসহ তিস্তা ও যমুনা নদীতে দেখা দিয়েছে ভাঙন।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র নদ এবং তিস্তা, করতোয়া ও ঘাঘট নদীসহ জেলার সবগুলো নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় করতোয়া নদীর পানি গোবিন্দগঞ্জের কাটাখালী পয়েন্টে বিপৎসীমার ৮৫ সে. মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। 


আরও পড়ুন