দেশের খবর - October 10, 2020

নন্দীগ্রামে আ’লীগ নেতার মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য আনোয়ার হোসেন রানার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ষড়যন্ত্রমূলক মামলার প্রতিবাদে নন্দীগ্রামের দামগাড়া থেকে ওমরপুর পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মানববন্ধন করেছে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন সংগঠন।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুর ১২টা থেকে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন চলাকালে বিক্ষুব্ধ দলীয় নেতাকর্মীরা মামলার ষড়যন্ত্রকারী দাবি করে বিএনপির এমপি মোশারফ হোসেন, আওয়ামী লীগ দলীয় উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বিএনপি নেতা হাসনাতের কুশপুত্তলিকা দাহ করে।

মানববন্ধনে উপজেলা আওয়ামী লীগ, পৌর আওয়ামী লীগ, সহযোগী সংগঠন, সকল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, শ্রমিক সংগঠন, সুধি সমাজ ও ব্যবসায়ীসহ ২৫টি সংগঠনের প্রায় দুই হাজারেও বেশি জনতা অংশ নেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্যানেল মেয়র আনিছুর রহমান, সাধারন সম্পাদক মুকুল হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা শফি উদ্দিন, মোরশেদুল বারী, মখলেছুর রহমান মিন্টু, একরাম হোসেন, কালিপদ রায়, জুলফিকার আলী, মোতাহার আলী, নিকুঞ্জু চন্দ্র, আনিছুর রহমান আলো, মিজানুর রহমান, হাফিজুর রহমান নান্টু, মোফাজ্জল হোসেন, শ্রমিক লীগের সাধারন সম্পাদক সরফুল হক উজ্জল, স্বেচ্ছা সেবক লীগের সাধারন সম্পাদক কামরুল হাসান সবুজ, শেখ হাসিনা পরিষদের সভাপতি রেজাউল করিম, তাতী লীগের সভাপতি আবু নোমান, সাধারন সম্পাদক তারেক মাহমুদ ডিউ, পৌর শ্রমিকলীগের সভাপতি এনামুল হক, সাধারন সম্পাদক সানোয়ার হোসেন মিলন, যুবলীগ নেতা সুজন প্রামানিক, ফারুক হোসেন, ছাত্রলীগ নেতা আবু নোমান নাদিম, আবু তৌহিদ রাজীব, আল-জাহিদ, সোহাগ প্রমূখ।

বক্তারা বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রানার পারিবারিক বিষয়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় এমপি বিএনপির এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে উপজেলা চেয়ারম্যান ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে সাথে নিয়ে নন্দীগ্রামের শক্তিশালী আওয়ামী লীগ সংগঠন ধ্বংসের পায়তারা করছে। বিএনপির এমপির যোগসাজসে অপপ্রচার করা হচ্ছে। রানার সাধারন সম্পাদক পদ নিয়ে মিথ্যা ষড়যন্ত্র করে অনেকেই সম্পাদক হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বক্তারা দলীয় সকল নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত না হয়ে সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ বলেন, আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য কুশপুত্তলিকা দাহ করা সহ ষড়যন্ত্র করছে। রানার পারিবারিক বিষয়ে আমাদের মাথাব্যাথা নেই।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক প্রফেসর ড. হাসনাত আলী বলেন, আমার কুশপুত্তলিকা দাহ করলে কি মামলা নিষ্পত্তি হবে? আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করিনা। শুনেছি এটা আওয়ামী লীগের দু’গ্রæপের কোন্দল। পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে রানার শ^াশুড়ি তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে।
জানতে চাইলে স্থানীয় বিএনপির সাংসদ আলহাজ¦ মোশারফ হোসেন বলেন, মামলাটি তাদের পারিবারিক বিষয়।

উল্লেখ্য, গত সোমবার (৫ অক্টোবর) রাতে নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রানার বিরুদ্ধে শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ এনে বৃদ্ধা শাশুড়ি দেলওয়ারা বেগম বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় মামলা করেন। মামলার অন্য আসামীরা হলেন মেয়ে আকিলা সরিফা সুলতানা, সরিফ বিড়ি ফ্যাক্টরির ব্যবস্থাপক ও হিসাবরক্ষক নজরুল ইসলাম, ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক হাফিজার রহমান এবং সুপারমার্কেটের ব্যবস্থাপক তৌহিদুল ইসলাম।


আরও পড়ুন