জয়পুরহাটে শিশু হত্যায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় আরাধা রানী নামে আড়াই বছরের একটি শিশুকে অপহরণ করে হত্যার ঘটনায় পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১৭ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন শিশু আদালত।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে জয়পুরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. রুস্তম আলী এ আদেশ দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন-পাঁচবিবি উপজেলার রশিদপুর মোলান গ্রামের উত্তম কুমার সরকার, বিরেশ চন্দ্র কর্মকার, সন্তোষ সরকার ওরফে টেপলু, মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে রাব্বু ও ওবাইদুল ইসলাম। তাদের মধ্যে জামিনে থাকা আসামি উত্তম পলাতক।  

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২২ ডিসেম্বর রশিদপুর মোলান গ্রামের পরেশ চন্দ্র বর্মনের বাড়ির পাশে খেলার সময় তার মেয়ে আরাধা নিখোঁজ হয়। পরে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আরাধাকে অপহরণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়। ওই দিনই অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে আরাধার বাবা পাঁচবিবি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

পরে ২৫ ডিসেম্বর ভোরে রশিদপুর মোলান বাজারসংলগ্ন একটি পুকুর পাড়ে মাটির ঢেলা দিয়ে চাপা দেওয়া অবস্থায় আরাধার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মামলাটি তদন্তে জানা যায়, মোটা অংকের অর্থের লোভে আসামিরা শিশুটিকে অপহরণ করে মুখে স্কচটেপ পেঁচিয়ে ও হাত বেঁধে বিরেশের বাসায় একটি বাক্সের মধ্যে আটকে রাখেন। পরে পুলিশ ও স্বজনরা শিশুটিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করলে অপরহণকারীরাও তাদের সঙ্গে যোগ দেন। কয়েকদিন ধরে সবাই যখন শিশুটিকে উদ্ধারে ব্যস্ত, ঠিক সেই ফাঁকে ২৪ ডিসেম্বর গভীর রাতে আটকে রাখা শিশুটি অনাহারে মারা যায়। পরে শিশুটিকে পুকুর পাড়ে মাটিচাপা দেওয়া হয়। তদন্তে এ হত্যায় সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় ওই পাঁচজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।  

পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সেই সময়ের পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ২০১৬ সালের ১০ মার্চ পাঁচজনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দেন। দীর্ঘ শুনানির পর ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় সোমবার এ রায় দিলেন বিচারক। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন শিশু আরাধার স্বজন ও আইনজীবীরা।


আরও পড়ুন