ডিসি-ইউএনওকে এমপি নিক্সনের হুমকি

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসনের ওপর চটেছেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী (নিক্সন)।

চরভদ্রাসন উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে শনিবার সন্ধ্যায় এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য স্থানীয় প্রশাসনকে হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘ম্যাজিস্ট্রেটরা ভবিষ্যতে তার নেতাকর্মীদের কোনো কাজে বাধা দিলে হাত-পা ভেঙে দেয়া হবে।’ এমনকি নির্বাচন কমিশন ১২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়ায় ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) অতুল সরকারের কাছে কৈফিয়ত তলব ও তাকে গালাগাল করেন।

নিক্সন বলেন, প্রশাসনের মধ্যে লুকাইয়া থাকা ওই জেলা প্রশাসক এ নির্বাচনে ১২ জন ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে নৌকার কর্মীদের অ্যারেস্ট করছে, পিটাইছে ওই জেলা প্রশাসক।

ওই জেলা প্রশাসক একজন রাজাকার মন্তব্য করে তিনি বলেন, তা না হলে মাত্র চারটি ইউনিয়নে ১২ জন ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে আমার নেতা-কর্মীদের যেখানে পাইছে সেখানে আমার নেতাকর্মীদের উপর হামলা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমি জেলা প্রশাসনকে সাবধান করব; আপনি ফরিদপুরে দেখেছেন অনেক বড় নেতার পতন হইছে, ওই বরকত-রুবেলের যত অন্যায়, যত দুর্নীতি তার সাথে আপনার জেলা প্রশাসনের লোক জড়িত ছিল। বরকত রুবেলের বিচারে হলে ওই জেলা প্রশাসকের বিচার হবে। কারন ওই দিপু খাঁর বালির ব্যবসার ভাগ ওই জেলা প্রশাসক পায়।

জেলা প্রশাসকের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনি যত বড় উপদেষ্টার নাতি হোন না কেন আপনি নিক্সন চৌধুরীর সাথে চোখ রাঙাইয়া কথা বলবেন না। আমি যদি আমার জনগণ নিয়া আপনার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামি, আমি যদি নেতা কর্মীদের নিয়ে নামি তবে আপনি এক মিনিট দম নেওয়ার সুযোগ পাবেন না।

এছাড়া, নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করায় তার একজন কর্মীকে স্বল্পসময়ের জন্য আটক করায় চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে গালাগাল করেন নিক্সন চৌধুরী। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছে ফরিদপুর জেলা প্রশাসন।

রোববার দুপুরে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন, ফরিদপুর শাখার জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রশাসক অতুল সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ফরিদপুরের ডিসি, ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে অশালীন আচরণ এবং দুর্ব্যবহার করার বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানানো হয়।

এতে বলা হয় শনিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নিক্সন চৌধুরীর সমর্থিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ১১ হাজারের বেশি ভোটে বিজয় লাভ করেন। কিন্তু রাত সাড়ে ৮টায় নির্বাচন পরবর্তী জনসভায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে বিজয়ী প্রার্থী মো. কাওছার ও সংসদ সদস্য এবং তার অনুসারীরা ১২ জন ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েনের কথা উল্লেখ করে জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে চরম বিদ্বেষমূলক কথাবার্তা বলেন।

নিক্সন চৌধুরীর অনুসারীরা বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দেন যা একজন সংসদ সদস্য বা সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষের পক্ষে অকল্পনীয়।

সভায় উপস্থিত সবাই একমত হন যে, সরকারের সিদ্ধান্ত ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান জেলা প্রশাসনের প্রতি এহেন আচরণ অত্যন্ত অবমাননাকর।


আরও পড়ুন