ভোট কেন্দ্রে ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়িতে ককটেল হামলা

চট্টগ্রামের লোহাগড়ায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কেন্দ্র দখল, জাল ভোটের খবর পেয়ে কেন্দ্রে গেলে দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়িতে ককটেল হামলার ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনায় ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ির চালক আহত হয়েছেন। তবে লোহাগাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিলুফা ইয়াসমিন চৌধুরী সুস্থ আছেন বলে জানা গেছে।

কেন্দ্র দখল, জাল ভোটসহ নানা সহিংসতার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের ৬ উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ শুরু হয়।

এর মধ্যে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া ও ফটিকছড়ি উপজেলায় বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। সহিংসতার কারণে লোহাগাড়া শাহ পীর এবতেদায়ী মাদ্রাসা কেন্দ্রে এক ঘণ্টা ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল।

লোহাগাড়া উপজেলার সদর এবং আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়িতে ককটেল হামলার ঘটনা ঘটে। সদর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের নজিবুন্নেসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং আমিরাবাদ ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের উত্তর আমিরাবাদ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, সদর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের নজিবুন্নেসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট এবং কেন্দ্র দখলের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান লোহাগাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিলুফা ইয়াসমিন চৌধুরী। এ সময় তার গাড়ি লক্ষ্য করে পরপর দুটি ককটেল নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা।

এতে গাড়ি চালক মো. শাহেদ (৩০) গুরুতর আহত হন। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।

লোহাগাড়ার আমিরাবাদ ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের উত্তর আমিরাবাদ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ ইনামুল হাসানের গাড়ি লক্ষ্য করে ককটেল হামলা চালানো হয়। তবে ককটেল সরাসরি গাড়িতে আঘাত না করায় এতে কেউ হতাহত হননি।

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌফিক আহমেদ বলেন, ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের খবর পেয়ে ম্যাজিস্ট্রেটরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এ সময় দুইজন ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ি লক্ষ্য করে ককটেল হামলা চালানো হয়। এরমধ্যে এক গাড়ি চালক গুরুতর আহত হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার সুয়াবিল ও নানুপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের একটি কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আওয়ামী লীগের ২ নেতা আহত হয়েছেন। বেলা ১১টার দিকে সুয়াবিলের শোভনছড়ি জেএমসি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ সহিংসতার ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন, আলী আকবর জুনু (৪৫) ও ইমাম উদ্দিন জেম (৩৫)।  আলী আকবর জুনু নাজিরহাট পৌরসভা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং ইমাম উদ্দিন জেম উপজেলা যুবলীগের সদস্য। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তির পর পরে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়।

চট্টগ্রামের ৬ উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য ২৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে দায়িত্ব পালন করেন।


আরও পড়ুন