শিকড়ের টানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত!

মিশরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জনাব মনিরুল ইসলাম গতকাল শনিবার (১৪ই অক্টোবর) ঐতিহাসিক নীলনদের বুকে গড়ে তোলা একটি বাঙ্গালী সবজি বাগান পরিদর্শন করেন।
মিশর এমন একটি দেশ যেখানে বাংলাদেশী শাক সবজি তো বটেই দেশীয় কোন পণ্যই পাওয়া যেত না বললেই চলে। প্রবাসী বাংলাদেশীদের অনিচ্ছা সত্যেও এই দেশীয় সবজির উপরেই নির্ভর করতে হয়েছিল এতদিন।
আলমগীর হোসেন নামের এক প্রবাসীর চেষ্টা ও অক্লান্ত পরিশ্রমে রাজধানী কায়রোতে নীল নদের বুকে আল-মা’দী নামক একটি দ্বীপে গড়ে তুলেছেন চমৎকার একটি বাংলাদেশী সবজি বাগান। কি নেই তাতে? সীম, করল্লা, লাউ, বডবডি, সাজনা, কাচকলা, বেনডি, কাচা মরিছ পুইশাক এমন কি কলমি শাক ।
আলমগীর জানালেন, মিশরে বাংলাদেশের কোন শাক সব্জির পাওয়া যায়না দেখে দেশের শাকসবজির প্রতি প্রবল মমত্ববোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী কৃষিকাজ শুরু করি। বাংলাদেশে থেকে বিভিন্ন জাতের শাক সব্জির বিচি ও চারা এনে নীলনদের এই দ্বীপে কয়েক শতাংশ জমি লিজ নিয়ে চাষাবাদ শুরু করেছিলাম। প্রথমে দ্বীপের স্থানীয় চাষীদের থেকে দুটি গাধা এনে গরুর পরিবর্তে গাধা ও কোদাল দিয়ে জমি চাষ করি। শৈশবে পড়া লেখার পাশাপাশি বাবার সাথে কৃষিকাজ করেছি, সেই থেকে কিছু অভিজ্ঞতা আর চ্যানেল আই এর জনাব শাইখ সিরাজের ‘হৃদয়ে মাঠি ও মানুষ’ অনুষ্ঠান দেখে আমার কৃষি শিক্ষা।
তিনি আরো বলেন, এই দ্বীপের জমি খুবই উর্বর, কোন প্রকার রাসায়নিক সার ও কিটনাশক ছাড়া শুধু নীলনদের পানি দিয়েই এই সকল শাক সবজি ফলাচ্ছি। ফলন ও খুবই আশানুরূপ। প্রতি বছরই জমির পরিমাণ বাড়াচ্ছি। আমার সবজি মিশরের বন্দর নগরী আলেক্সান্ড্রিয়া সহ রাজধানী কায়রোর বড় বড় শপিংমল গুলোতে নিয়ে যায়। বাংলাদেশী সহ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক প্রবাসী আসেন আমার জমিতে বাগান দেখতে ও সবজি নিতে। অনেকেই নিজ হাতে সবজি তুলে নেন আনন্দের সাথে।
গতকাল ও মিশরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জনাব মনিরুল ইসলাম সস্ত্রীক এসেছিলেন আমার বাগান দেখতে। তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন সবজি দেখে আবেগে আপ্লুত হয়ে পরেন ও নিজ হাতে সবজি উঠান।
হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’ অনুষ্ঠানের শাইখ সিরাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আলমগীর বলেন, আমার এই প্রয়াসকে তার জনপ্রিয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রচার করে কৃষিপ্রধান বাংলা দেশের মাটি ও মানুষের সাফল্যের গল্পগুলো ছড়িয়ে দিক বিশ্বময়, প্রবাস জীবনেও দেশ, দেশের মাটি, ফলন বেঁচে থাকুক প্রতিটি বাঙালির মনন আর হৃদয়ের মাঠ জুড়ে এটাই আমার কামনা।

আরও পড়ুন