ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে সাক্ষী দিতে হয়রানির শিকার অভিযোগকারী মুক্তিযোদ্ধারা

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অভিযুক্ত মো. মেহেদী উল আলম, মো. নুরুল আমিন, মো. আবু তাহের ও মো. সুরুজ মিয়ার বিরুদ্ধে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে (জামুকা) অভিযোগ করেছে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত সেপ্টেম্বর মাসের ১০ ও ২৩ তারিখে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের নিকট অভিযোগকারী মুক্তিযোদ্ধারা সাক্ষ দান করতে গেলে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে মেহেদী উল আলম বার বার সময়ের আবেদন করেন।

এর প্রেক্ষিতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী দুই বার সময় দেয়ার পর ১৪ অক্টোবর সাক্ষীর পরবর্তী ও সর্বশেষ তারিখ নির্ধারণ করেন। অভিযুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের বরাবর রেজিস্ট্রি ডাকযোগে তদন্ত নোটিশ পাঠান।

নোটিশের প্রেক্ষিতে অভিযোগকারী মুক্তিযোদ্ধা গণ সাক্ষী দেয়ার জন্য ১৩ তারিখে ঢাকা গেলে বিকেলে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সহকারী পরিচালক মো. হাফিজুর রহমান অভিযোগকারী মুক্তিযোদ্ধাদের ফোন করে জানান, অভিযুক্ত মেহেদী উল আলম অসুস্থতার জন্য আবার সময়ের আবেদন করেছেন।

ঢাকায় অবস্থান করায় তবুও ১৪ অক্টোবর অভিযোগকারী মুক্তিযোদ্ধারা জামুকায় গেলে সহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান বলেন, আপনাদের নামে কোন চিঠি ইস্যু করি নি এবং কোন ফোন করি নাই।

পরবর্তীতে পুনরায় সহকারী পরিচালকের পক্ষ থেকে ৪ নভেম্বর সাক্ষী দেয়ার জন্য অভিযোগকারী মুক্তিযোদ্ধাদের রেজিস্ট্রি ডাকযোগে তদন্ত নোটিশ পাঠান।

৩ নভেম্বর বিকেলে হাফিজুর রহমান মোবাইল করে সাক্ষী দিতে আসা মুক্তিযোদ্ধাদের জানান, মেহেদী উল আলম আবার সময়ের আবেদন করেছেন। আপনাদের আসার দরকার নেই।

কিন্তু অভিযোগকারী মুক্তিযোদ্ধারা ফোনের কথা বিশ্বাস না করে ৪ নভেম্বর সকালে চিঠিসহ সাক্ষী দিতে গেলে সহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান বলেন, আপনাদের জানানো হয়েছে তবুও আপনারা কেন আসলেন। মুক্তিযোদ্ধারা সাক্ষীর হাজিরা নিতে বললে তিনি জানান, মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে কথা বলে আপনাদের সাক্ষী ডাকা হবে বলে অপেক্ষা করতে বলেন। বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করার পর হাফিজুর রহমান জানান, মন্ত্রী মহোদয় চলে গেছেন। আপনারা চলে যান।

পরে মুক্তিযোদ্ধারা জামুকার পরিচালক প্রশাসনের সাথে দেখা করলে তিনি জানান, আপনারা অনুপস্থিত থাকায় মন্ত্রী মহোদয় ৮ নভেম্বর তদন্তের তারিখ পুনঃনির্ধারণ করেছেন।

জামুকায় উপস্থিত দেশের অন্যন্য জেলার মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারাও একই ভাবে সহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান কর্তৃক প্রতারণা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার অভিযোগকারী মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান জানান, কোন লাভে সহকারী পরিচালক বার বার সময় ক্ষেপণ করছেন তা আমাদের জানা নেই। তার জন্য আমরা হয়রানির শিকার হচ্ছি।

এ ব্যাপারে তিনি মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেন।

 


আরও পড়ুন