মডার্নার ভ্যাকসিন ৯৫ শতাংশ কার্যকর

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে নিজেদের তৈরি সম্ভাব্য ভ্যাকসিন ৯৪.৫ শতাংশ ক্ষেত্রে কার্যকর বলে দাবি করেছে ভ্যাকসিনটির প্রস্তুতকারক মার্কিন জৈবপ্রযুক্তি কোম্পানি মর্ডানা। সোমবার ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের শেষধাপ শেষে এমন তথ্য জানায় ভ্যাকসিন তৈরী করা দ্বিতীয় এ মার্কিন কোম্পানি। রয়টার্স।

ভ্যাকসিন পরীক্ষার তৃতীয় ধাপে ৩০ হাজার মানুষের দেহে ভ্যাকসিনটি পুশ করে চালানো পরীক্ষার পর প্রাপ্ত প্রাথমিক ফলাফলের বরাতে কোম্পানিটি এমন দাবি করেছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভ্যাকসিনের ব্যবহার শুরুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করবে বলে জানিয়েছে মডার্না।

শেষ ধাপের ওই ট্রায়ালে যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ হাজার মানুষের দেহে ভ্যাকসিনটি পুশ করে মডার্না। এর মধ্যে অর্ধেককে চার সপ্তাহের ব্যবধানে ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ দেয়া হয়। এ ছাড়া বাকিদের দেয়া নামমাত্র ইনজেকশন। সেগুলোতে ভ্যাকসিনের কোনো ডোজ ছিল না।

এর আগে প্রথমবারের মতো করোনা প্রতিরোধে ৯০ শতাংশ কার্যকর একটি ভ্যাকসিন তৈরির দাবি করে মার্কিন ওষুধ কোম্পানি ফাইজার ও জার্মান জৈবপ্রযুক্তি কোম্পানি বায়োএনটেক। ছয় দেশে ৪৩ হাজার ৫০০ জন মানুষের দেহে পরীক্ষা চালিয়ে প্রাথমিকভাবে এমন ফল পাওয়া যায়।

দুটি ভ্যাকসিন ৯০ শতাংশের বেশি কার্যকর বলে পরীক্ষার ফল আসার পর এ আশা তৈরি হয়েছে যে, সবার কাছে ভ্যাকসিন সরবরাহ করা গেলে হয়তো খুব বিশ্ব মহামারি এই করোনাভাইরাসের প্রকোপ থেকে রক্ষা পাবে। তবে কবে সবার কাছে ভ্যাকসিন পৌঁছাবে এ নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।

তবে ভ্যাকসিনটির প্রস্তুতকারক কোম্পানি মডার্না আজকের দিনটিকে ‘মহান দিন’বলে অভিহিত করলেও এটা এখনও প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত ফলাফল। এখনও পূর্ণাঙ্গ ফল না আসায় ভ্যাকসিন নিয়ে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা রয়ে গেছে। পূর্ণাঙ্গ ফল আসলে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

করোনায় আক্রান্ত ৯৫ জন রোগীর ওপর এ ভ্যাকসিন পুশ করে কার্যকারিতা পর্যালোচনা করা হয়। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ঝুঁকিপূর্ণ গ্রুপের রোগী রয়েছে।

উল্লেখ্য, রাশিয়া গত আগস্ট মাস থেকে দেশের ভিতর ব্যবহারের জন্য স্পটনিক-ভি নামের একটি ভ্যাকসিন অনুমোদন দিয়েছে। দেশটি বলছে বড় আকারের ট্রায়ালে ৯২ শতাংশ কার্যকারিতার প্রমাণ পেয়েছে ভ্যাকসিন সংশ্লিষ্টরা।


আরও পড়ুন