দেশের খবর - November 26, 2020

বামনায় স্বাস্থ্য সহকারীদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি

নিয়োগ বিধি সংশোধন করে বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবীতে বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে কর্মরত সকল স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য সহকারীরা অনির্দ্দিষ্ট কালের জন্য কর্মবিরতী ঘোষনা করেছেন।

আজ বৃহস্পতিবার(২৬ নভেম্বর) সকালে বাংলাদেশ হেল্থ এসিসট্যান্ট এসোসিয়েশন বামনা উপজেলা শাখার উদ্যোগে উপজেলার ২৪ জন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট কর্মীরা অফিসে যোগদান করে কোন প্রকার সেবা না দিয়ে হাসপাতালের সামনে অবস্থান নেন এবং আজ থেকে কর্মবিরতী শুরু করেন। তাদের দাবী না মানলে আরো কঠিন কর্মসূচী দিবেন বলে তারা ঘোষনা দেন। এসময় আন্দোলনরত স্বাস্থ্য কর্মীরা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে তাদের দাবী সংশ্লিষ্ট স্মারকলিপি প্রদান করেন এবং সকল শিশুর অভিভাবকদের কর্মবিরতী চলাকালীন সময়ে অনবিজ্ঞ কর্মীদের দিয়ে যাতে শিশুকে হাম-রুবেলা টীকা না দেওয়া হয় তার জন্য অনুরোধ করেন।

স্মারকলিপির সূত্রে জানাগেছে, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১৯৯৮ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য কর্মীদের বেতন বৈষম্য নিরসনের ঘোষনা দিয়েছিলেন। পরে ২০১৮ সালে তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাদের সকল দাবী মেনে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দিলেও মন্ত্রনালয় তা মানে নাই। পরে চলতিবছর ২০ ফেব্রæয়ারী দেশের সকল স্বাস্থ্য কর্মীরার হাম- রুবেলা ক্যাম্পেইনের কার্যক্রম বন্ধ করলে স্বাস্থ্য মন্ত্রী ও স্বাস্থ্য সচিব তাদের দাবী মেনে নিয়ে একটি সমঝোতা পত্রে স্বাক্ষর করেন। দাবী মেনে নেওয়ার সমঝোতা হলেও অদ্যবধি কার্যক্রম শুরু না করায় সারা দেশ ব্যাপী হাসপাতালে কর্মরত সকল স্বাস্থ্য কর্মীরা আসন্ন হাম-রুবেলা ও ইপআই কার্যক্রম বন্ধ ঘোষনাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষনা করেন।

কর্মবিরতী চলাকালীন সময়ে বক্তব্য দেন, বাংলাদেশ হেল্থ এসিসট্যান্ট এসোসিয়েশন বামনা উপজেলা শাখার দাবী বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক, স্বাস্থ্য পরিদর্শক মো. খালিদুর রশিদ, যুগ্ম আহবায়ক আমিরুল ইসলঅম, সদস্য সচিব সঞ্জয় কুমার হাওলাদারপ্রমূখ।

এসময় বক্তারা বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তারা আমাদের কর্মবিরতী চলাকালীন সময়ে তাদের চিকিৎসক ও নার্সদের দিয়ে হাম-রুবেলা কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে এধরণের টীকা একমাত্র স্বাস্থ্যকর্মীরাই শিশুদের ভালোভাবে দিনে পারেন। তাই তারা অভিভাবকদের কাছে অনুরোধ করেন যাতে তাদের শিশুকে অনবিজ্ঞ কর্মীদের দ্বারা টীকা দিয়ে যাতে ঝুঁকিতে না ফেলেন সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে।


আরও পড়ুন