কিশোরগঞ্জে উন্নত প্রযুক্তির ইটভাটা স্থাপনে উদ্ধুতকরণ বিষয়ক মতবিনিময়

কিশোরগঞ্জে পরিবেশ অধিদপ্তর, কিশোরগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে কিশোরগঞ্জ জেলার (একাংশ) ইটভাটা মালিকগণের সাথে “উন্নত প্রযুক্তির ইটভাটা স্থাপনে উদ্বুদ্ধকরণ ” বিষয়ক একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২ ডিসেম্বর) সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদপ্তর, কিশোরগঞ্জ জেলা কার্যালয় এর সিনিয়র কেমিস্ট কাজী সুমন।
সিনিয়র কেমিস্ট কাজী সুমন সভায় “ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন(নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত-২০১৯)” মোতাবেক ইটভাটা পরিচালনা করার জন্য ইটভাটার মালিকগণের প্রতি অনুরোধ জানান। এছাড়া আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ এলাকায় অবস্থিত ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধকরণসহ আধুনিক প্রযুক্তিতে রূপান্তর করা হয়নি এমন ইটভাটা আইন অনুযায়ী ইটভাটার অবস্থান গ্রহণযোগ্য হলে উন্নত প্রযুক্তিতে রূপান্তর করার জন্য বলা হয়। মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন কিশোরগঞ্জ জেলা ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির সভাপতি হাফেজ মো. খালেকুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল আহাদ মানিকসহ অন্যান্য মালিকগণ।

ইটভাটা মালিকগণ ইটভাটা পরিচালনায় পরিবেশ অধিদপ্তরের সহায়তা কামনা করেন। সভায় বিস্তারিত আলোচনা শেষে নিম্নবর্ণিত সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
১. “ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন(নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত-২০১৯)” মোতাবেক ইটভাটা পরিচালনা করতে হবে।
২. আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ এলাকায় অবস্থিত ইটভাটার কার্যক্রম সম্পুর্ণ বন্ধ রাখতে হবে।
৩. যে সকল ইটভাটার অনুকূল পরিবেশগত ছাড়পত্র রয়েছে, সেসকল ইটভাটার অনুকূলে প্রদত্ত ছাড়পত্র/নবায়নপত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার কমপক্ষে ০১ (এক) মাস প‚র্বে নবায়নের আবেদন দাখিল করতে হবে।
৪. সকল ইটভাটার অনুকূলে পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং জেলা প্রশাসকের ইট পোড়ানোর লাইসেন্স গ্রহণপূর্বক পরিচালনা করতে হবে। পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং জেলা প্রশাসকের ইট পোড়ানো লাইসেন্স ব্যতিরেকে ইটভাটা পরিচালনা করা যাবে না।
৫. ১২০ ফুট উচ্চতার চিমনীযুক্ত যে সকল ইটভাটা রয়েছে সে সকর ইটভাটার অবস্থান যদি “ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন(নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত-২০১৯)” মোতাবেক যদি গ্রহণযোগ্য হয় তাহলে এরূপ ভাটাসমূহকে উন্নত প্রযুক্তিতে রূপান্তর করে পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণপূর্বক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। অন্যথায় ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হবে।
৬. ইটভাটায় মাটির ব্যবহারসহ অন্যান্য বিষয়সমুহ আইন অনুযায়ী পরিচালনা করতে হবে।
৭. বায়ুর মানমাত্রা পরিমাপের জন্য চিমনীর মধ্যে হোল(ছিদ্র) করতে হবে। চিমনীতে উঠার জন্য সিড়ি ও বসার জন্য মাচা তৈরি করতে হবে।
৮. ইটভাটায় সৃষ্ট ডাস্ট/ধুলা-বালি নিয়ন্ত্রণের জন্য সর্বদা পানি ছিটাতে  হবে।
৯. ইট বা ইটভাটার কাঁচামাল পরিবহনের সময় ট্রাক পুরোপুরি ঢেকে পরিবহন করতে হইবে।
১০. ইটভাটায় সৃষ্ট ছাই সম্পুর্ণভাবে ইট প্রস্তুতে ব্যবহার করতে হইবে।
১১. ইটভাটায় কর্মচারী/শ্রমিকদের কোভিড ১৯ সংক্রমণ রোধে স্বস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করে ইটভাটা পরিচালনার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
ভবিষ্যতেও পরিবেশ অধিদপ্তর, কিশোরগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে ইটভাটা মালিকগণের সাথে এ ধরণের মতবিনিময় সভা আয়োজন অব্যাহত থাকবে।


আরও পড়ুন