শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে প্রস্তুতির নির্দেশ

আগামী ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর। শুক্রবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এ নির্দেশনা দেয় মাউশি।

এর আগে বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দুই-এক দিনের মধ্যে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গাইডলাইন পাঠাবে। তাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বাস্থ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ থাকবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পুনরায় শিক্ষা কার্যক্রম চালুর প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে।

শুক্রবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়- স্কুল, কলেজ, উচ্চ মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরযুক্ত উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের জানানো যাচ্ছে যে, এখন আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে। আপনারা জানেন যে, কোভিড-১৯ অতিমারী চলাকালীন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক-কর্মচারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা। সেই লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রস্তুত করার জন্য ‘গাইড লাইন’ তৈরি করা হয়েছে। সকলকে সঙ্গে নিয়ে গাইড লাইন অনুযায়ী আগামী ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সকল শিক্ষাপ্রতষ্ঠানকে তাদের শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। যাতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ পাওয়া মাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়া যায়।

 

বৃহস্পতিবার ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে শিক্ষা মন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব গোলাম মো. হাসিবুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক সূত্র জানায়, স্বাস্থ্যবিধিগত দিক অনুযায়ী বিদ্যালয়ের টয়লেটসহ অন্যান্য দিক পরিচ্ছন্ন, শ্রেণিকক্ষ, মাঠঘাট ও আশপাশ এলাকা পরিষ্কারসহ সার্বিক ধোয়ামোছা, স্যানিটাইজার-মাক্স কেনা এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া করোনার কারণে স্কুল খুলতে বাড়তি ব্যয় হবে। সেই ব্যয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বিবিধ তহবিল থেকে নির্বাহ করা হবে। এজন্য আলাদা কোনো খাতে ফি নেওয়া যাবে না বলে বৈঠকে আলোচনা হয়।

করোনা সংক্রমণের কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের স্কুল, কলেজসহ সব ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। এরই মধ্যে পিএসসি, জেএসসি, এইচএসসি এবং সব শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা বাতিল হয়েছে।


আরও পড়ুন