জাতীয় - প্রচ্ছদ - January 24, 2021

কাশিমপুর কারাগারের জেল সুপার ও জেলার প্রত্যাহার

গাজীপুরে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১ এ বন্দি আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িত হলমার্কের জেনারেল ম্যানেজার (মহাব্যবস্থাপক) তুষার আহমেদকে কারাগারে নারী সঙ্গীর ব্যবস্থা করে দেওয়ার ঘটনায় ওই কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার রত্না রায় ও জেলার নুর মোহাম্মদ মৃধাকে রবিবার সকালে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এ নিয়ে এ ঘটনায় পাঁচজনকে প্রত্যাহার করা হলো। তাদেরকে কারা অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

কারা সূত্র জানায়, পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত কাশিমপুর কারাগার পার্ট-১ এর সিনিয়র জেল সুপার রত্না রায় ও জেলার নুর মোহাম্মদ মৃধাকে কারা অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার সহকারী কারা-মহাপরিদর্শক (প্রশাসন) মাইন উদ্দিন ভূঁইয়া তিনজনকে প্রত্যাহারের কথা জানান।

তারা হলেন- কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-১ এর ডেপুটি জেলার গোলাম সাকলাইন, সার্জেন্ট ইনস্ট্রাক্টর মো. আবদুল বারী ও সহকারী প্রধান কারারক্ষী মো. খলিলুর রহমান।

উল্লেখ্য, দেশের আর্থিক খাতের আলোচিত কেলেঙ্কারি হলমার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদের ভায়রা ও হলমার্কের মহাব্যবস্থাপক তুষার আহমদকে কারা কর্মকর্তাদের কক্ষে নারীসঙ্গের ব্যবস্থা করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত কারা-মহাপরিদর্শক আবরার হোসেনকে প্রধান করে উপ-সচিব (সুরক্ষা বিভাগ) আবু সাঈদ মোল্লা ও ডিআইজি (ময়মনসিংহ বিভাগ) জাহাঙ্গীর কবিরকে সদস্য করে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়।

এ ছাড়া একই ঘটনায় গত ১২ জানুয়ারি গাজীপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল কালামকে প্রধান করে গাজীপুরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে হাবিবা ফারজানা ও ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরীকে নিয়ে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

কারাগারের সিসি ফুটেজে দেখা গেছে, গত ৬ জানুয়ারি কারাগারে প্রবেশপথের মাঝে কর্মকর্তাদের অফিস এলাকায় কালো রঙের জামাকাপড় পরে স্বাচ্ছন্দ্যে ঘোরাফেরা করছেন তুষার আহমেদ। তিনি আসার কিছু সময় পর বাইরে থেকে বেগুনি রঙের সালোয়ার কামিজ পরা এক নারী সেখানে প্রবেশ করেন।

কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার রত্না রায় ও ডেপুটি জেলার সাকলাইনের উপস্থিতিতেই ওই নারীকে সেখানে দেখা যায়। তাদের সহযোগিতার বিষয়টিও সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে।

দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে কারাগারের দুই যুবকের সঙ্গে ওই নারী কারাগারের কর্মকর্তাদের কক্ষ এলাকায় প্রবেশ করে। তাকে সেখানে রিসিভ করেন খোদ ডেপুটি জেলার সাকলায়েন।

ওই নারী সেখানে প্রবেশ করার পর অফিস থেকে বেরিয়ে যান ডেপুটি জেলার সাকলায়েন। প্রায় ১০ মিনিট পর কারাগারে বন্দি হলমার্কের জিএম তুষার আহমদকে নিয়ে আসেন।


আরও পড়ুন