কুলিয়ারচরে উদ্বোধনের আগেই নবনির্মিত বিদ্যালয় ভবনে ফাটল

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮০ লক্ষ টাকা ব্যায়ে সেসিপ প্রকল্পের আওতায় চারতলা ভিত বিশিষ্ট একতলা একাডেমিক ভবন নির্মান কাজ শেষ হতে না হতেই একাধিক বড় বড় ফাঁটল দেখা দিয়েছে। দেখার কেউ না থাকায় রহস্যজনক কারনে তদারকীর অভাবে নজরে আসেনি কারোর চোঁখে।

গত (৩০ জানুয়ারি) বিকালে ছয়সূতী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়কে উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নীতকরণ ও বিদ্যালয়ের ৭০ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে সূধী সমাবেশ শেষে নবনির্মিত ভবনটি উদ্বোধন কালে স্থানীয় সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রধান অতিথি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ইয়াছির মিয়া ও উদ্বোধক বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি লায়ন জে. এল. ভৌমিকের নজরে দিলে বিষয়টি সকলের নজরে আসে।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অতিরিক্ত সচিব (অবঃ) ড. মো. এমদাদুল হক, সরকারি তিতুমীর কলেজের সমাজ কল্যাণ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান (অবঃ) অধ্যাপক মো. শাহ্ আলম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মো. এনামুল হক, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সাঈদা খানম মুক্তা, ছয়সূতী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সালাহ উদ্দিন মুর্শেদ নিজামী (বাবুল), বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের কো-অপ্ট সদস্য ও উত্তরা পূর্ব থানার ওসি (তদন্ত) মো. আলমগীর গাজী, বীর মুক্তিযোদ্ধা লায়ন মো. আলী আকবর খাঁন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তাকুর রহমান, বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য মো. ময়েজ উদ্দিন খান, সহকারি প্রধান শিক্ষক হরিচরণ দাস, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি কুলিয়ারচর উপজেলা শাখার সভাপতি ফজলে এলাহী, বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্য আনোয়ার পারভেজ, জুয়েল মিয়া, মো. খুর্শেদ আলম, মো. শাহ আলম, শিউলি আক্তার, সহকারী শিক্ষক পীযুষ ঘোষসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

এ সময় উপস্থিত অতিথিবৃন্দ ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে প্রধান অতিথি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ইয়াছির মিয়া এসব ফাঁটল দেখে দুঃখ প্রকাশ করে আশ্বস্ত করেন, বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।

জানা যায়, গত ২০২০ ইং সনের ২৮ ফেব্রুয়ারী সেসিপ প্রকল্পের আওতায় চারতলা ভিত বিশিষ্ট একতলা একাডেমিক ভবন নির্মান কাজের ফলক উন্মোচন করে আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের সংসদ সদস্য ও বিসিবি সভাপতি আলহাজ্ব নাজমুল হাসান পাপন। এর পর কিশোরগঞ্জ জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক কিশোরগঞ্জের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান রিমি এন্ড কোং এর মাধ্যমে ডিসেম্বর মাসে নির্মাণ কাজ শেষ করেন। সংশ্লিষ্ঠ ঠিকাদার শিপলু জানান, এ মাসের (জানুয়ারি) মাঝামাঝি সময়ে নবনির্মিত ভবনটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তাকুর রহমানের নিকট বুঝিয়ে দিয়েছি

এসময় কোথাও কোন প্রকার ফাঁটল চোখে পরেনি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তাকুর রহমান নবনির্মিত ভবনটি ঠিকাদারের নিকট থেকে বুঝে নেওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তদারকীর দায়িত্বে ছিলেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার। তিনিই তদারকী করেছেন।

উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মুহাম্মদ মুশফিকুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সরকারি এক চিঠি পেয়ে একদিন ভবন নির্মাণ কাজ দেখতে ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে ছিলাম কিন্ত কোন ফাঁটল দেখতে পাননি। এলাকাবাসীর প্রশ্ন তদারকীর দায়িত্বে কে বা কারা ছিলেন ? কেনই বা এসব ফাঁটল তাদের নজরে আসেনি ? না কি এর পিছনে অন্য কোন কারন আছে ? সেসিপ কর্তৃক দেয়া টাকা সঠিক ভাবে ব্যায় না করে নিম্ন মানের জিনিস দিয়ে বাকী টাকা আত্মসাৎ করে সঠিক ভাবে কাজ না করে অর্থের বিনিময়ে পার পেয়ে যায়নিতো ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান? বিষয়টি খতিয়ে দেখার প্রয়োজন।


আরও পড়ুন