লাগামহীন চাল-তেলের দর, নিয়ন্ত্রণে নেই পেঁয়াজ

চাল, ডাল, চিনি ও ভোজ্য তেলের বাজারে অস্বস্তি কাটেনি। এর মধ্যে বাড়তে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম। এ সপ্তাহে পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম বেড়েছে কেজিতে পাঁচ থেকে ১০ টাকা। বিক্রেতারা বলছেন, কুয়াশার কারণে পণ্যবোঝাই গাড়ি আসতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে, তাই বাজারে পেঁয়াজসহ কয়েকটি পণ্যের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তবে বাজার ঘুরে পেঁয়াজ ও রসুনের তেমন ঘাটতি চোখে পড়েনি। সবজির বাজারে স্বস্তি থাকলেও বাজারভেদে দামে বেশ পার্থক্য দেখা গেছে।

এছাড়া বেড়েই চলেছে সয়াবিন তেলের দাম। বিরতী দিয়ে বস্তা প্রতি চালের দাম বেড়েছে আরেক দফা। কারণ জানা নেই পাইকার থেকে খুচরা ব্যবসায়ী কারোরই। চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে বিদেশ থেকে বেসরকারীভাবে চাল আমদানীর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো সরকার। আমদানী করাও হয়েছে ইতিমধ্যে। কিন্তু আমদানী করা চাল দেশি চালের দামের কাছাকাছি হওয়ায় প্রভাব পরেনি বরং আরো বেড়েছে। এতে ক্ষুব্ধ সাধারণ ক্রেতারা। দোকানীর সাথে তর্কেও লিপ্ত হচ্ছেন কোন কোন ক্রেতা।

দুই মাসের বেশি সময় ধরে অস্থির অবস্থা বিরাজ করছে সয়াবিন তেলের বাজারে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে লিটার প্রতি আরেক দফা দাম বেড়েছে সয়াবিনের পাইকারি থেকে খুচরা বাজারে। সেই সাথে বেড়েছে আটা ময়দার দামও।

নিয়ন্ত্রণে নেই পেঁয়াজের বাজারেও। কেজি প্রতি দেশি পেঁয়াজ খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে পাঁচ থেকে ১০ বেশি দামে। বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায় গত সপ্তাহে প্রতি কেজি ৩০ টাকায় বিক্রি হওয়া দেশি পেঁয়াজ এক লাফে উঠেছে ৪০ টাকায়। আলুর দামও কেজি প্রতি বেড়েছে তিন টাকা পর্যন্ত।

ব্রয়লার মুরগির দাম ২০ টাকা এবং পাকিস্তানী কক কেজি প্রতি চল্লিশ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ডিমের দামেও বাড়তি দিকে। গত সপ্তাহে ৮৫ টাকা ডজন দরে বিক্রি হওয়া ফার্মের মুরগির ডিম ক্ষেত্র বিশেষে একশ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শীতের সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহে বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও এর দর বাড়তে শুরু করেছে আচমকা। গাজর, ফুলকপি, বাধাকপি ছাড়া প্রায় প্রতিটি সবজির দাম কেজিতে সর্বোচ্চ ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আচমকা এই দর বাড়ার প্রবণতার সঠিক কারণ জানা নেই বলে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বেশিরভাগ দোকানী। দর বৃদ্ধির জন্য এসব পণ্যের উৎসস্থলে দাম বাড়ানো এবং মজুতদারদের কারসাজিকে দোষ দিয়েছেন কোন কোন খুচরা বিক্রেতারা।


আরও পড়ুন