ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চাপে রেখে দিন শেষ করল বাংলাদেশ

প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন লিটন দাস ও মেহেদি হাসান মিরাজ। সপ্তম উইকেট জুটিতে তারা যোগ করেন ১২৬ রান। কিন্তু তাদের জুটি ভাঙার পর নামে ধস, বাংলাদেশ অলআউট হয়ে যায় ২৯৬ রানে। যার ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ পায় ১১৩ রানের লিড। তবে এ লিড সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুটা ভালো হয়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজের। তাদেরকে চাপে রেখেই তৃতীয় দিনের খেলা শেষ করেছে বাংলাদেশ।

ম্যাচের তৃতীয় দিন শেষে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ২১ ওভারে ২ উইকেটের বিনিময়ে ৪১ রান। প্রথম ইনিংসের ১১৩ রানের লিডসহ তারা এখন এগিয়ে ১৫৪ রানে। চতুর্থ দিন ক্যারিবীয়দের অল্প রানে আটকে রাখতে না পারলে ম্যাচের চতুর্থ ইনিংসে বড় লক্ষ্য তাড়া করতে হবে বাংলাদেশ দলকে। ফলে এখন চট্টগ্রাম টেস্টের ঠিক বিপরীত অবস্থায় গিয়ে ঠেকছে চলতি ঢাকা টেস্ট।

জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ম্যাচে আগে ব্যাট করেছিল বাংলাদেশ, ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তারা ছুঁড়ে দিয়েছিল ৩৯৫ রানের বিশাল লক্ষ্য। যা তাড়া করে অবিস্মরণীয় জয় তুলে নিয়েছিল ক্যারিবীয়রা। এবার সেই অবস্থার সামনে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম ইনিংসে ৪০৯ রান করে তারা পেয়েছে ১১৩ রানের লিড। কারণ বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে অলআউট হয়েছে ২৯৬ রানে। এখন নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের জন্য বড় লক্ষ্য প্রস্তুত করছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশকে সামনে এখন জয়ের উপায় একটাই, চট্টগ্রামের ওয়েস্ট ইন্ডিজ হয়ে যাওয়া।

আজ শনিবার দিনের শেষ সেশনে ২৭ ওভার বাকি থাকতে ব্যাটিংয়ে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। একমাত্র পেসার আবু জায়েদ রাহির হাতে নতুন বল দেয়নি বাংলাদেশ। দুই প্রান্তেই স্পিনার দিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসের বোলিং শুরু করে তারা। এতে মিলেছে সাফল্য। ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই ক্যারিবীয় অধিনায়ক ক্রেইগ ব্রাথওয়েটের (১৩ বলে ৬) উইকেট তুলে নেন অফস্পিনার নাঈম হাসান।

সেই ওভারের তৃতীয় বলটি নাঈম করেছিলেন পুরো লেগ স্ট্যাম্পের ওপর। শর্ট লেন্থে পড়া বলটি পুল করার চেষ্টা করেন ব্রাথওয়েট। কিন্তু সেটি তার ব্যাটের বদলে গ্লাভস ঘেঁষে চলে যায় উইকেটরক্ষক লিটন দাসের গ্লাভসে। বল ধরে আউট বলে উল্লাস শুরু করলেন লিটন দাস। বোলার নাঈমও সেই আনন্দে শামিল হলেন। কিন্তু আম্পায়ার ইলিংওর্থ, মাথা নেড়ে জানিয়ে দিলেন এটা আউট নয়। মানতে পারেননি লিটন। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি মুমিনুলকে বললেন রিভিউ নিতে। মুমিনুলও দেরি না করে রিভিউ চাইলেন। তাতেই দেখা গেলো ব্র্যাথওয়েটের আঙ্গুল এবং গ্লাভস ছুঁয়ে গেছে বল। ফলে সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য হন আম্পায়ার, প্রথম সাওল্য পায় বাংলাদেশ।

পরে নবম ওভারে মেহেদি মিরাজকে আক্রমণে আনেন মুমিনুল। নিজের প্রথম ওভারেই সাফল্যের দেখা পান মিরাজ। তার ওভারের তৃতীয় বলটি শেন মোজলির (২০ বলে ৭) ব্যাটের কানা ছুঁইয়ে জমা পড়ে দ্বিতীয় স্লিপে দাঁড়ানো মোহাম্মদ মিঠুনের হাতে। বাংলাদেশ পায় দ্বিতীয় সাফল্য এবং মিরাজ তুলে নেন নিজের ক্যারিয়ারের ১০০তম উইকেট।

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের চতুর্থ বোলার হিসেবে ১০০ উইকেট নিলেন মিরাজ। তার আগে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে উইকেটের সেঞ্চুরি করেছেন মোহাম্মদ রফিক, সাকিব আল হাসান ও তাইজুল ইসলাম। এ চারজনের মধ্যে ম্যাচ ও ইনিংসের হিসেবে মিরাজই দ্রুততম সময়ে ১০০ উইকেট নিলেন। তার লেগেছে ২৪ ম্যাচ ও ৪১ ইনিংস।

দুই স্পিনার নাঈম-মিরাজের সাফল্য দেখে হয়তো হাত নিশপিশ করছিল বাঁহাতি তাইজুল ইসলামের। তাই দিন শেষের আগে তৃতীয় আঘাতটি হানেন তিনিই। ইনিংসের ১৭তম ওভারে তার বলে জন ক্যাম্পবেলের (৪৮ বলে ১৮) আউটটি ছিল বেশ অদ্ভুত। সোজা ব্যাটে ডিফেন্ড করেছিলেন ক্যাম্পবেল। বলটি পপিং ক্রিজে পড়ার পর পেছন দিকে গিয়ে চলে যায় মিডল স্ট্যাম্পে, পড়ে যায় বেলস, বাংলাদেশ পায় তৃতীয় উইকেট।

দিনের তখন আর ১৫ মিনিট বাকি থাকায় কোনো স্বীকৃত ব্যাটসম্যান পাঠায়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। নাইটওয়াচম্যান হিসেবে পাঠানো হয় জোমেল ওয়ারিকানকে। তাকে সঙ্গে নিয়ে শেষের সময়টা নিরাপদে কাটিয়ে দেন প্রথম ইনিংসের নায়ক এনক্রুমাহ বোনার। চতুর্থ দিন সকালে বোনার ৮ ও ওয়ারিকান ২ রান নিয়ে খেলতে নামবেন।


আরও পড়ুন