মঙ্গলে নাসার রোবট যানের ঐতিহাসিক অবতরণ

রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা শেষে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার রোবট যান অবতরণ করলো মঙ্গলে। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত তিনটার আগমুহূর্তে লালগ্রহে নামে মহাকাশ যান ‘পারসিভেয়ারেন্স’।

বিবিসি জানায়, সাত মাস আগে ছয় চাকার এই স্বয়ংক্রিয় যানটি পৃথিবী থেকে ৪৭০ মিলিয়ন কিলোমিটার (৪৭ কোটি মাইল) পথের যাত্রা শুরু করেছিল।

এই মহাকাশ মিশনের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং অংশ ছিল মঙ্গলের পৃষ্ঠে যানটির অবতরণের মুহূর্তটি। কারণ এর আগে বহু মহাকাশযান এই কাজ করতে গিয়ে বিভ্রান্ত হয়ে গেছে।

নাসায় পারসিভেয়ারেন্সের উপ প্রকল্প ম্যানেজার ম্যাট ওয়ালেস বলেন, ‘মহাকাশ মিশনে সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোর অন্যতম হলো সফল অবতরণ। মঙ্গলগ্রহে এর আগে যেসব মিশন পাঠানো হয়েছে তার মধ্যে ৫০ শতাংশ যান মঙ্গলের পিঠে সফলভাবে অবতরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। কাজেই আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে রোবট যানটি নিরাপদে নামানো।’

ফলে ঐতিহাসিক এই মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করছিলেন নাসার বিজ্ঞানীরা। সবার মধ্যে ছিল উৎকণ্ঠা নিয়ে।যানটি সফলভাবে মঙ্গলে অবতরণ করার সঙ্গে সঙ্গে লস অ্যাঞ্জেলসের জেট প্রপালসন ল্যাবরেটরিতে উল্লাসে মেতে ওঠেন বিজ্ঞানীরা।

পারসিভেয়ারেন্সে মঙ্গলে অবতরণের মুহূর্তকে উদ্‌যাপন করতে গিয়ে ল্যাবরেটরিটির প্রধান প্রকৌশলী রব ম্যানিং বলেন, ‘নাসা কাজ করে, নাসা কাজ করে, এটি তার একটি নিদর্শন। আমরা আমাদের বাহুগুলো একসঙ্গে রাখি, আমাদের হাতগুলো একসঙ্গে রাখি এবং আমাদের মগজ একসঙ্গে পরিচালিত করি, আমরা সফল হতে পারি। নাসা এটিই করে, একটি দেশ হিসেবে এটিই আমরা করতে পারি।’

জেজেরো ক্রেটার (গভীর গর্ত) একটি জায়গায় পারসিভেয়ারেন্স মঙ্গলে নামে। উপগ্রহ থেকে পাওয়া ছবি থেকে বিজ্ঞানীদের ধারণা, একসময় এই হ্রদটিতে প্রচুর পানি ছিল এবং সম্ভবত সেখানে জীবনও ছিল।

আগামী দুই বছর মঙ্গলে অবস্থান করে গ্রহটিতে অতীতে কোনো প্রাণের অস্তিত্ব ছিল কিনা তা জানার চেষ্টা করবে রোবট যানটি।

তথ্য ও ছবি পাঠানোর পাশাপাশি বিলিয়ন বছর আগে সৃষ্টি হওয়া জাজেরো ক্র্যাটারের ধুলাবালুর মধ্যে থেকে নমুনা সংগ্রহ করবে রোবট যানটি। এসব নমুনা বিশ্লেষণ করে দেখা হবে গ্রহটিতে অতীতে জৈব কোনো কর্মকাণ্ডের সন্ধান ছিল কি না।

নাসার জেট প্রপালসন ল্যাবরেটরির পরিচালক মাইক ওয়াটকিনস বলেন, ‌‘এই সাফল্য ভবিষ্যতে লালগ্রহে (মঙ্গলে) মানুষের যাত্রার পথ তৈরি করবে। মঙ্গলে নভোচারী পাঠানোর জন্য আমরা এখনও প্রস্তুত নই, তবে আমরা রোবট পাঠিয়েছি।’

এর আগে এত উন্নত যন্ত্রপাতি নিয়ে কোনো গ্রহে বৈজ্ঞানিক মিশন পাঠানো হয়নি এবং এত সম্ভাবনাময় একটা স্থানকে টার্গেট করে কোনো রোবটও এর আগে কখনো নামানো হয়নি।

পারসিভেয়ারেন্সের আগে মঙ্গলগ্রহে নভোযান অবতরণের ১৪টি প্রচেষ্টা নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে আটটি সফল হয়, যার সবগুলোই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের মিশন। তবে ১৯৯৯ সালে একবার নাসার মঙ্গল মিশন ব্যর্থ হয়েছিল।

নাসার যানের এ সফল অবতরণে পুরো টিমকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি বলেন, ‘নাসাকে অভিনন্দন এবং যারা পারসিভেয়ারেন্সের ঐতিহাসিক অবতরণকে সম্ভব করে তোলেছে তাদেরকে। আজ আবার প্রমাণিত হলো বিজ্ঞানীর শক্তি এবং মার্কিন উদ্ভাবনশক্তি দিয়ে কোনো কিছু সম্ভাবতার আওতার বাইরে নয়।’


আরও পড়ুন