মোবাইল নেটওয়ার্কের মানোন্নয়নে বিটিআরসিকে চিঠি

মোবাইল নেটওয়ার্কের মানোন্নয়ন করতে বিটিআরসিকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন। মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানান সংগঠনটির দফতর সম্পাদক লোটাস জামিল।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত একটি চিঠি বিটিআরসি চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বর্তমান টেলিকম ও ইন্টারনেট সেবায় গ্রাহকরা ব্যাপক দুর্ভোগে রয়েছে। গত এক বছর দেশের সকল কার্যক্রম চলমান রয়েছিল শুধুমাত্র প্রযুক্তির উন্নয়ন ও নেটওয়ার্কের মহাসড়কের মাধ্যমে। কিন্তু এ মহাসড়কের অবস্থা বর্তমানে এতটাই বেহাল- যা ভাষায় বোঝানো দুষ্কর। কলড্রপের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ২-৩.৫ এ উন্নীত হয়েছে। সংযোগ পেতে গ্রাহকের ৭ সেকেন্ডের পরিবর্তে ১০-১২ সেকেন্ড সময় লাগছে। মিউট কলসহ অসংখ্য বিড়ম্বনা, ইন্টারনেটের ধীরগতি, ডাটা ক্রয় করে ডাটা ব্যবহার করতে না পারা, আরও অসংখ্য প্রতারণা এর সাথে যুক্ত হয়েছে।

আরও বলা হয়, করোনা মহামারির মধ্যেই দেশের শীর্ষ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন তার কাস্টমার কেয়ারগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। আজ গ্রাহক সেবার মান সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। এসব দুর্ভোগের কথা মাথায় রেখেই আমরা গত বছর ২৮ নভেম্বর উকিল নোটিশ দিতে বাধ্য হয়েছিলাম। পরবর্তী সময়ে হাইকোর্টে আমরা রিট পিটিশন দাখিল করি, যা বর্তমানে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। দেশে ইতোমধ্যে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের বার্তা শোনা যাচ্ছে। এমতাবস্থায় যদি দ্রুত নেটওয়ার্কের মানোন্নয়ন ও ইন্টারনেটে ডাটার গতি বৃদ্ধি ও পর্যাপ্ত সরবরাহ না করা যায়, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত এক বছরে ইন্টারনেটের স্বল্পতা, উচ্চমূল্যের কারণে শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। টেলিমেডিসিন এ সময়ে আমাদের সহযোগিতা করলেও গ্রামীণ প্রান্তিক পর্যায়ে এ সেবা পৌঁছানো যায়নি। শুধু তাই নয়, ঢাকা শহরের বহু এলাকায় নেটওয়ার্ক পাওয়া দুষ্কর। এমনকি আমরা লক্ষ্য করেছি ঢাকা জজ কোর্টের বহু এলাকা, গুলিস্থান, পুরাতন ঢাকা, বিশ্ববিদ্যালয় ও হাইকোর্টের বহুলাংশে নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না। ২০১৯-২০২০ ও ২০২১ সালে গ্রাহক সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ। ডাটার ব্যবহার বেড়েছে প্রায় ৩৫ শতাংশ বেশি। বর্তমানে চাহিদা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশ প্রায়।


আরও পড়ুন