কুলিয়ারচর - April 8, 2021

কুলিয়ারচরে মাদ্রাসার ছাত্র বলৎকারের অভিযোগে হেফাজত নেতার বিরুদ্ধে মামলা

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে মাদ্রাসার এক ছাত্র (১১) কে বলৎকারের পর কোরআন শরীফ ধরিয়ে কাউকে কিছু না বলার জন্য শপথ করানোর অভিযোগ উঠেছে পৌর এলাকার বড়খারচর আদর্শ নূরানী ও হাফিজয়া মাদ্রাসার মোহতারিম ও স্থানীয় হেফাজত নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বুধবার (৭এপ্রিল) রাতে কুলিয়ারচর থানায় একটি মামলা রুজু হয়েছে। অভিযুক্ত মাদ্রাসার শিক্ষক ও হেফাজত নেতা হাফেজ মাওলানা ইয়াকুব আলী (৩৫) উপজেলার উছমানপুর গ্রামের সাবেক সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুল কাদিরের ছেলে। ছাত্রের পরিবার সূত্রে জানা যায়, তাদের ছোট ছেলে (১১) গত শুক্রবার মাদ্রাসা থেকে বাড়ি আসার পর আর মাদ্রাসায় যেতে না চাইলে তাকে একাধিকবার মারধর করেন তারা। তারপরও সে মাদ্রাসায় যেতে অস্বীকৃতি জানায়। একপর্যায়ে পরিবারের চাপে ওই ছাত্র গত মঙ্গলবার (৬এপ্রিল) সকালে মাদ্রাসায় যাওয়ার নাম করে মা’কে নিয়ে সোজা কুলিয়ারচর থানায় নিয়ে যায়। তখনও মা বুঝতে পারেনি কি হয়েছে। মা তখন মনে করেছে তারা যে মারধর করেছে এজন্য অভিযোগ করতে হয়তো থানায় নিয়ে এসেছে।

ছেলে পুলিশের কাছে মারধরের অভিযোগ করবে এমন ভয়ে মা ছেলেকে থানার সামনে থেকে বুঝিয়ে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যায়। তারপর ওই ছাত্র তার মা’কে ওই মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতির নিকট নিয়ে যেতে বলে। মা তখন মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুস সাত্তার মাস্টারের নিকট নিয়ে গেলে, কমিটির সভাপতির কাছে ছেলেটি তার সাথে হওয়া নির্মমতার (বলৎকার) ঘটনা খুলে বলে এবং অভিযোগ করার জন্য তাকে থানায় নিয়ে যেতে বলেন মাদ্রাসার সভাপতিকেও। শিশু ছেলের এমন কথা শুনে ‘থ’ হয়ে যান ওই সভাপতি। এরপর থেকে বিষয়টি থানায় অভিযোগ করতে না দিয়ে স্থানীয় ভাবে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালায় স্থানীয় কয়েকজন মাতাব্বর। পরে ছাত্রের পরিবারের পক্ষ থেকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি’র নিকট বিচার চেয়ে পৃথক পৃথক ভাবে অভিযোগ করেন। নির্মম নির্যাতনের স্বীকার মাদ্রাসার ছাত্র সাংবাদিকদের জানায়, মাদ্রাসার ইয়াকুব আলী হুজুর তাকে গত ১এপ্রিল রাত আনুমানিক ২টার দিকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে খারাপ কাজ করেছে। খারাপ কাজ করার পর কোরআন শরীফ ধরিয়ে তাকে শপথ করায় এ ঘটনার কথা কাউকে না বলার জন্য। এর আগেও একদিন রাতে তাকে ওই হুজুর খারাপ কাজ করে। তখন ভয়ে কাউকে কিছুই বলতে সাহস পায়নি। এক সপ্তাহ পর ঘটনা এলাকায় জানাজানি হলে বুধবার (৭এপ্রিল) বিকালে এ প্রতিনিধির নিজস্ব ফেসবুক আইডি থেকে ” কুলিয়ারচরের বড়খারচরে মাদ্রাসার মুহতামিম তার এক ছাত্রকে কোরআন শরীফে হাত রেখে শপথ করিয়ে বলাৎকারের অভিযোগ। ঘটনা ধামা চাপা দিতে মাতাব্বরদের দৌড়ঝাঁপ চলছে।” একটি স্টিকার পোস্ট করার পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। মূহুর্তেই ফেসবুকে আরো অনেকেই স্টিকার, বিভিন্ন লিখা পোস্ট করে ও কমেন্ট লিখে আইনের মাধ্যমে সঠিক তদন্ত করে এ ঘটনার কঠিন বিচার দাবি করেন তারা। এরপর ওই দিন বুধবার (৭ এপ্রিল) রাত ১০ টা ৫ মিনিটের সময় অভিযুক্ত ওই মাদ্রাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে কুলিয়ারচর থানায় একটি মামলা রুজু হয়।

মামলা নং-০৪। মামলার বাদী হয় ওই ছাত্রের বাবা। অভিযুক্ত হাফেজ মাওলানা ইয়াকুব আলী’র সাথে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়রা জানান, হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতা মামুনুল হক ইস্যুতে গত শনিবার (৩এপ্রিল) দিবাগত রাতে বিক্ষোভ মিছিল করে পুলিশের বিরুদ্ধে শ্লোগান দেওয়া, পুলিশকে উদ্দেশ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়া, উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি বাসভবন ভাঙচুর এবং মহারাজ ত্রৈলোক্যনাথ চক্রবর্তীর পাঠাগার ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাইনবোর্ড ভাঙচুরের মূল পরিকল্পনাকারী ও উস্কানিদাতা ওই হেফাজত নেতা হাফেজ মাওলানা ইয়াকুব আলী।

হামলায় জড়িত অধিকাংশ ছেলেই ওই হুজুরের অনুসারী। মাদ্রাসা শিক্ষক কর্তৃক শিশু ছাত্র বলৎকারের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করে কুলিয়ারচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ইয়াছির মিয়া বলেন, গত ৫ দিন আগে পুলিশের উপর হামলা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবন ভাঙচুর এবং মহারাজ ত্রৈলোক্যনাথ চক্রবর্তীর পাঠাগার ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাইনবোর্ড ভাঙচুরের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন, বলৎকারের অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক হাফেজ মাওলানা ইয়াকুব আলীসহ জহির বিন রাহুল নামে অপর এক ব্যক্তি। ওই দিন মিছিল, হামলা ও ভাংচুর করার এক ঘন্টা আগে তারা দু’জন ওই মাদ্রাসায় একটি মিটিং করে মিছিলটি বের করে। তারা হেফাজত ও শিবিরের লোক। এ ব্যাপারে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ এ.কে.এম সুলতান মাহমুদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মাদ্রাসা ছাত্র বলৎকারের ঘটনায় হাফেজ মাওলানা ইয়াকুব আলী’র বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। আসমীকে গ্রেফতারের চেষ্টায় তৎপর রয়েছে পুলিশ।


আরও পড়ুন